সিভাসু অধ্যাপক হুমায়ুনের বই নিয়ে ওয়াইলির কিউ-টু জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবিরের রচিত “মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস: নিউট্রিশন, প্রসেসিং অ্যান্ড হেলদি এজিং” বইকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ওয়াইলি-ব্ল্যাকওয়েল প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ডেইরি টেকনোলজি জার্নালে একটি গবেষণাভিত্তিক বই-পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রবন্ধটির শিরোনাম “এ প্যারাডাইম শিফট ইন ডেইরি সায়েন্স এন্ড ফাংশনাল নিউট্রিশন : এ বুক রিভিউ অব ‘মিল্ক এন্ড ডেইরি ফুডস : নিউট্রিশন, প্রসেসিং এন্ড হেলদি এজিং’’বইয়ের একটি পর্যালোচনা।

প্রবন্ধটি লিখেছেন দেলোয়ার হোসাইন। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ২.৮, সাইটস্কোর ৫.৫ এবং এটি কিউ-টু ক্যাটাগরির একটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক জার্নাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।দুগ্ধবিজ্ঞান, পুষ্টি, খাদ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে একত্রে উপস্থাপন করায় বইটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একটি বই প্রকাশ করাই বড় একাডেমিক অর্জন; তবে সেই বই নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে বই-পর্যালোচনা প্রকাশিত হওয়া আরও বড় স্বীকৃতি। কারণ, সব বইকে আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনার জন্য নির্বাচিত করা হয় না। সাধারণত যেসব বই গবেষণা, পাঠদান, নীতি-আলোচনা ও ভবিষ্যৎ একাডেমিক কাজের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়, সেগুলোকেই জার্নাল কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনার আওতায় আনে।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গুগল সার্চ ইঞ্জিনে “বিশ্বে দুধ ও দুগ্ধবিজ্ঞান বিষয়ক সেরা বই কোনটি” লিখে অনুসন্ধান করলে ড. হুমায়ুন কবিরের রচিত “মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস: নিউট্রিশন, প্রসেসিং অ্যান্ড হেলদি এজিং” বইটি প্রথম দিকের ফলাফলে প্রদর্শিত হয়।বাংলাদেশের একজন গবেষকের লেখা দুগ্ধবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিষয়ক বই আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ফলাফলে এভাবে দৃশ্যমান হওয়া নিঃসন্দেহে বিরল ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুগ্ধবিজ্ঞান, খাদ্যপ্রযুক্তি ও পুষ্টিবিষয়ক পাঠদান ও গবেষণা-রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের একজন গবেষকের রচিত বই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠদান ও গবেষণায় ব্যবহৃত হওয়া দেশের একাডেমিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বইটির মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকার সমপরিমাণ বলে জানা গেছে, যা বইটির একাডেমিক ও রেফারেন্সমূল্যকেও নির্দেশ করে। বাংলাদেশের একজন গবেষকের লেখা এমন উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক একাডেমিক বই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঠক, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে—এটি দেশের গবেষণা অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

ড. হুমায়ুন কবিরের বইটিতে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যের পুষ্টিগুণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কার্যকরী দুগ্ধপণ্য, প্রোবায়োটিকস, প্রোটিন পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সিভাসুর একজন অধ্যাপকের বই আন্তর্জাতিক জার্নালে আলোচিত হওয়া বাংলাদেশের দুগ্ধবিজ্ঞান, পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি গবেষণার জন্য মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। বইটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট একাডেমিক মহলের মতে, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গবেষক ও শিক্ষকরা এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞানভান্ডারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যকে কেবল খাদ্য হিসেবে নয়, বরং পুষ্টি, স্বাস্থ্য, বার্ধক্য প্রতিরোধ ও কার্যকরী পুষ্টির আলোকে বিশ্লেষণ করার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী ও বৈশ্বিকভাবে প্রাসঙ্গিক।

ড. এ কে এম হুমায়ুন কবিরের এই অর্জন সিভাসু তথা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন