ডিসি হিল থেকে পরিবেশের ক্ষতিকর বৃক্ষগুলো স্বমূলে নির্মূল করার দাবিতে পথসভা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আজ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) প্রাঙ্গণে পথসভা অনুষ্ঠিত ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক।

পথসভায় উপস্থিত বিশেষ আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-চট্টগ্রাম আদালতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্কু রঞ্জন সাহা, শ্রমিক নেতা এম. নুরুল হুদা চৌধুরী, কবি অরুণ শীল, নেসারুল হক নেসার, মীর আমির খান, সবুজ রক্ষিত, অমল দাশ, অচ্যুত দাশগুপ্ত ও মোহাম্মদ রায়হান।

বক্তারা বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ মানুষের পরম বন্ধু এবং পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান। তবে সব বৃক্ষ পরিবেশের জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। মানুষের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করে—এমন ক্ষতিকর বৃক্ষের মধ্যে ইউক্যালিপটাস, সেগুন, মেহগনি, ইপিল-ইপিল, মটমটিয়া, পিসাইস, পার্থেনিয়াম, আকাশমণি ও আকাশিয়া উল্লেখযোগ্য।
বক্তারা আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ক্ষতিকর প্রজাতির কিছু বৃক্ষ ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) এলাকায়ও দেখা যায়। এসব বৃক্ষের ব্যাপারে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বক্তাদের দাবি, এসব গাছ প্রচুর পানি শোষণ করে এবং আশপাশের অন্যান্য উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে ফুল, পাতা ও পরাগকণার কারণে মানুষের শ্বাসতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেন। পাখি, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও এসব বৃক্ষ উপযোগী নয় বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ডিসি হিল শুধু একটি উন্মুক্ত স্থান নয়; এটি চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ।

জনস্বাস্থ্য, পরিবেশের ভারসাম্য এবং নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) প্রাঙ্গণের ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর বৃক্ষসমূহ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিহ্নিত করে স্বমূলে অপসারণের দাবি জানান বক্তারা।

একই সঙ্গে অপসারিত বৃক্ষের স্থানে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ করে ডিসি হিলকে আরও সবুজ, নিরাপদ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও নান্দনিক করে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

মন্তব্য করুন