
চট্টগ্রাম, ২৫ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে পাঁচলাইশ থানা, ব্যাংকার্স ও চিকিৎসক থানাসহ বিভিন্ন থানার রুকনদের নিয়ে রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগর জামায়াতের দেওয়ানবাজারস্থ কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার এবং পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকার পরিচালনার জন্য যোগ্যতা, পেশাগত উৎকর্ষতা ও জ্ঞানের গভীরতা প্রয়োজন। দায়িত্ব যত বড়, জবাবদিহিতাও তত বেশি। কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্র পরিচালনা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়; রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আস্থা বাড়ছে। আমাদেরও সেই অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় আমলাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয় প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যোগ্য জনবল তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আমানতদারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতি, দক্ষ জনবল, পরিকল্পনা, পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবং কর্মসূচি বা প্রকল্পের প্রয়োজন। পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, আমানতদারিতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মতো মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা, সেবা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, তা না হলে রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়বে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রুকনদের আনুগত্য, এহতেছাব ও পরামর্শের মাধ্যমে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এহতেছাবের চর্চা সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রুকুনিয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও মর্যাদার বিষয়। রুকনদের নিজেদের আদর্শিক জ্ঞান, আমল-আখলাক ও সাংগঠনিক যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হলে প্রত্যেক রুকনকে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি দায়িত্বশীলদের যথাযথ প্রস্তুতি, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিকভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।









