চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতির রজতজয়ন্তী উৎসব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজতজয়ন্তী উৎসব ১৪ জুলাই ২০২৫ খ্রি. চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ শওকত আলী নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ ইমরানুল আজিজের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. শাহ্ মোহাম্মদ শফিকউল্লাহ্।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ ছিদ্দিকী, চবি বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসাইন, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক মেজর (অব.) মো. নুরুল হুদা কুতুবী, প্রাক্তন সভাপতি মুহাম্মদ শামসুল আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আকন্দ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. সালমা বিনতে শফিক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সেলিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মাউশি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর মো. জসিম উদ্দীন খান, সমিতির জীবন সদস্য প্রফেসর এ এন এম ইউসুফ চৌধুরী ও অধ্যাপক লিয়াকত আখতার সিদ্দিকী।

উৎসবের শুরুতে বিকালে রজতজয়ন্তী ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কালারফুল রজতজয়ন্তী উৎসব র‌্যালী সম্পন্ন হয়। এরপর সন্ধ্যায় রজতজয়ন্তী সংখ্যা ‘ফিরে দেখা -২০২৫’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও রজতজয়ন্তী কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ ও সমিতির নেতৃবৃন্দ। রজতজয়ন্তী উৎসবে বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. শাহ্ মোহাম্মদ শফিকউল্লাহ্ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনকে সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রজতজয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম, সমিতির বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি এস এম মাহবুবুর রহমান, পৃষ্ঠপোষক সদস্য মো. মাহবুবুল আলম, জীবন সদস্য শিল্পপতি লোকমান হোসেন তালুকদার, প্রাক্তন সহ-সভাপতি অধ্যাপক এস এম মাহবুব-উল-বশর বাবুল, প্রফেসর মো. আবু তাহের, প্রফেসর মো. ফেরদাউস কবীর, শিল্প উদ্যোক্তা অধ্যাপক নাহিদ বানু, দৈনিক কক্সবাজারের সম্পাদক ফাতেমা জাহান, সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আ ন ম নাসির উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর ফারুক হোসাইনী, সমিতির সমাজসেবা সম্পাদক এ কে এম আকতার কামাল চৌধুরী, প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেহেনা আখতার বেগম, প্রাক্তন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোলতানারা বেগম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল বশর রাসেল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আইয়ুব, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী সদস্য মো. হারুনুর রশিদ মনছুরী, সাংবাদিক এ টি এম তোহা, অধ্যাপক এ এম রমিজ আহমদ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবু ছাইয়িদ, মো. আবু সালেহ ও অহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া রজতজয়ন্তী উৎসবে সমিতির জীবন সদস্য, প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

রজতজয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথি ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সরকার রাজনৈতিক দৃর্বত্তায়ন থেকে দেশকে মুক্ত করতে টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বৈষম্যহীন ও কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ দায়িত্ব পালন করতে সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান। ধর্ম উপদেষ্টা দীর্ঘদিন পর নিজ বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইদের সাথে একত্রিত হতে পেরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতিকে একটি সুন্দর, চমৎকার, আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অ্যালামলাই হিসেবে রজতজয়ন্তী উৎসব আয়োজন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতির জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই সমিতির সদস্যরা দেশ-বিদেশে দ্যুতি ছড়িয়ে জাতির জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আগামী দিনে দেশ, জাতি, মানবকল্যাণ ও ছাত্রকল্যাণে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আরো ভূমিকা পালন করবে। জাঁকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে বক্তারা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ঐতিহ্য আরো ছড়িয়ে দিতে অ্যালামনাইদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। সমিতির রজতজয়ন্তী উৎসবে ইতঃপূর্বে মৃত্যুবরণকারী শিক্ষক, জীবন সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবসহ সকল স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন মো. আবুল আহসান।

মন্তব্য করুন