চট্টগ্রাম নগরীতে ২ হাজার ৩শ ৯০টি পুকুর ভূমিদস্যুর দখলে!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন (বাপসা) ও চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ ১৯ জুলাই ২০২৫ইং দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে বাপসার কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এ হাশেম রাজুর সভাপতিত্বে, সিডিএফ-এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমদারের পরিচালনায় মোহরার শতবর্ষী পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপসার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্স-এর সদস্য মাহবুবুর রহমান রানা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সচিব এড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আইএইচআরসি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক, পরিবেশ কর্মী জান্নাতুল নাঈয়ুম রিকু, মানবাধিকার কর্মী এস এম ফরিদ, বাপসার কেন্দ্রীয় সদস্য, পটিয়া উপজেলার সাবেক ভাইচ চেয়ারম্যান আফরোজা জলি, সিডিএফ-এর সহ সভাপতি এস এম ইমরান, নগর পরিবেশ সম্পাদক সাইফুল আলম খান এবং সাধারণ সদস্যবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে ৪৬৪১টি পুকুরের মধ্যে ২৩৯০টি পুকুর ভূমিদস্যুর দখলে রয়েছে। নতুন করে মোহরা সেলিমের পিতার বাড়ির জনগণের ব্যবহৃত পুকুর প্রশাসনের নাকের ডগায় রাত দিন ভরাট চলছে, দেখার কেউ নাই। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে শত শত পাহাড় কেটে, নালা-নদী ভরাট করে চট্টগ্রামকে কংক্রিটের শহরে পরিণত করেছে। এভাবে চলতে থাকলে অক্সিজেনের অভাবে চট্টগ্রামের মানুষ সহ পশু-পাখি, জীবজন্তু বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে। সভাপতির বক্তব্যে বাপসার কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এ হাশেম রাজু বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যু, প্রশাসন, মাফিয়া লুটেরা গোষ্ঠী রাতের অন্ধকারে প্রতিনিয়ত পুকুর ভরাট করেই চলছে। তাই অনতিবিলম্বে পুকুর ভরাট বন্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সারা চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী সহ শহরের অধিকাংশ পুকুর, জলাশয়, গাছপালা সুরক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিডিএফ-এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমদা বলেন, পুকুর ভরাট, নদী-নালা দখল দূষণের কারণে মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটিও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হচ্ছে। তাই নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমস্ত পরিবেশবাদী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুষখোর প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘোষণা করবো।

মন্তব্য করুন