
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘বাকশালী শাসনামলে ভোটবিহীন নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন আর ভারতের দখলদার মনোভাবের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজের নিরবতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’
শনিবার (১৯জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন ইন্টারনেট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল, তখন কয়েকজন সাহসী সাংবাদিক সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছবি পাঠিয়ে দিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। আবার এমন সাংবাদিকও ছিল, যারা সেই সময় আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে গাড়িতে তুলে দিয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ওই সময় একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারতো, কিন্তু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে তা হয়নি।’
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে অনেক গৌরবোজ্জ্বল সাংবাদিকতা রয়েছে। সেই ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রেসক্লাব গঠনে নির্বাচন জরুরি।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে একটি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ ইউনিট গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন, যাতে সাংবাদিকতার মান ও পেশাগত শুদ্ধতা রক্ষিত হয়।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা এই প্রেসক্লাবে বসতে পারছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘যারা মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন না, অথচ সরকারের সঙ্গে সখ্য ছিল, তারা প্রেসক্লাবের সদস্য হয়েছেন। স্বাধীন সাংবাদিকরা বরাবরই অবহেলিত থেকেছেন।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য মুস্তফা নঈম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবাইর, চট্টগ্রামের মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ, সাংবাদিক গোলাম মওলা মুরাদ, সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব নীলা আফরোজ, কেন্দ্রীয় সংগঠক আশরাফুল হক টিপু, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক তানজিদ রহমান ও চট্টগ্রাম নগর সংগঠক সাদিয়া আফরিন প্রমুখ।









