চব্বিশের রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো “২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫” শীর্ষক এক গৌরবময় সাংস্কৃতিক আয়োজন। বুধবার দুপুর ২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নেয় চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও কর্ণফুলী থানাভুক্ত বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় “জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি” উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম এবং সহযোগিতায় ছিল বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

শিক্ষার্থীরা দেয়ালে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তুলে ধরেন তাদের সৃজনশীলতা, ইতিহাসবোধ ও দেশপ্রেম। প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কর্ণফুলী থানার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব জয়ন্ত বারৈ। তিনি তার বক্তব্যে এ আয়োজনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহাসিক চেতনা ও শিল্পবোধ জাগিয়ে তুলতে এমন আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মধুসূদন দাশ। তিনি বলেন, “এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমরা পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও তাদের সৃজনশীল চর্চা ও ভাবনার পরিসর বাড়াতে চাই।” তিনি আয়োজনে যুক্ত সব শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতি সন্তান, শিক্ষানুরাগী ও বিদ্যালয়ের কে.জি. সেকশন ‘আধুনিক কিন্ডারগার্টেন’-এর সভাপতি এমদাদুল হক বাদশা। তিনি বলেন, “আজকের ‘২৪’-এর প্রজন্মই আগামী দিনের রাষ্ট্র নির্মাতা। তাদের শিল্পচর্চার মধ্য দিয়েই সমাজ সচেতন ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব।”
আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক মিন্টু, যিনি বলেন, “শিক্ষা ও শিল্প একে অপরের পরিপূরক—এই সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একজন পরিপূর্ণ মানুষ।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক রাজীব পাল, এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিনিয়র শিক্ষিকা মিসেস. হাসিনা বেগম ও সিনিয়র শিক্ষিকা সৈয়দা মশরুর জাহান । আয়োজনে পর্দার আড়ালে সহযোগিতায় ছিলেন শিক্ষক ইরফানা নিজাম, নুসরাত সুলতানা, রাজিয়া সুলতানা, সেলিনা আক্তার, নুসরাত জাহান, ওমর ফারুক ও রাম কিরণ শর্মা।

প্রতিযোগিতার ফলাফল: বিদ্যালয় পর্যায়: প্রথম স্থান: বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান: সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়, তৃতীয় স্থান: মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি স্মৃতি বিদ্যালয়। কলেজ পর্যায়: প্রথম স্থান: হাজেরাতজু ডিগ্রি কলেজ, দ্বিতীয় স্থান: আয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন কলেজ, তৃতীয় স্থান: বাকলিয়া সরকারি কলেজ।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে জেলা শিক্ষা অফিসার অংশগ্রহণকারী সকলের প্রশংসা করে বলেন, “আমি একেবারে হঠাৎ করেই তাদের জানিয়েছিলাম, অথচ তারা দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এত অল্প সময়ে এত চমৎকার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “জয়-পরাজয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ। যারা অংশ নিয়েছে, তারাই সফল।”
এই আয়োজন বিদ্যালয়ের জন্য যেমন সম্মানজনক, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে থাকবে এক গৌরবময় অভিজ্ঞতা।

মন্তব্য করুন