
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ফ্যাসিস্ট সহযোগিতায় ডায়াবেটিক হাসপাতালের ফিরে পেতে মরিয়া একটি গোষ্ঠী। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরীর পদত্যাগ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাব ও নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কোটি টাকার দূর্নীতি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া জাহাংগীর বাঁচার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে। ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনও তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ২০১৮ সাল থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতালের কর্মকান্ড চালাচ্ছিলো ফ্যাসিবাদের এই দোসর।
হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তারই পোষা সদস্যদের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তারই তৈরি করা প্রশ্ন সহযোগী এক ফ্যাসিস্টের করা প্রশ্নের উত্তর দেন।
আইনগত কোনো ভিত্তি নেই, বৈধতা নেই, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কমিটির সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তর যে কমিটিকে বহিস্কার করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, সেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাবেক সভাপতি নিজেকে সভাপতি হিসেবে কীভাবে উচ্চআদালতে রিট পিটিশনের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি স্থগিত করে- তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, হাসপাতালের আজীবন সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই হতবাক।
সরকারি নথিপত্রে তিনি চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাবেক সভাপতি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার নামে যেসব চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে সেখানে তাকে সাবেক সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তারপরও তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করে আসছেন। প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় হাসপাতালের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অনবরত মিথ্যা বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের অনুকূলে পত্রিকায় ফরমায়েসী সংবাদ ছাপিয়ে তা ফেসবুকে আপলোড করে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করছেন যে, তিনিই চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি।
আবার তিনি গণমাধ্যমে এমনও বলেছেন, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির কমিটির কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। আইন-কানুন মানতে তিনি নারাজ। অথচ ১৯৭৮ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি এ হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। এতক্ষণ ধরে যার অনিয়ম-দুর্নীতি,প্রতারণা ও মিথ্যাচারের গল্প বলা হচ্ছে তিনি হচ্ছেন চট্টগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের স্বঘোষিত মা-বাপ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির অননুমোদিত ও বহিস্কৃত সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে আনীত কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের অনুদানের আত্মসাৎকৃত সাড়ে ২৭ লাখ টাকা গত ২০ এপ্রিল সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তিনি জমা দেননি।
তার দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় প্রতিবছর ডায়াবেটিক হাসপাতালকে যে দুই কোটি টাকা অনুদান দিতো তা বন্ধ করে দেয়। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বহুবার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় অর্থ কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ, মানববন্ধন থেকে শুরু করে একাধিকবার তদন্ত হয়। কিন্তু বরাবরের মতো তিনি নানা ফন্দিফিকির অবলম্বন করে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল সমিতির আজীবন সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু জাহাঙ্গীর চৌধুরী সমিতির সংবিধান নিজের মতো সংশোধনের মাধ্যমে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দীর্ঘ দুই যুগের কাছাকাছি পকেট কমিটি দিয়ে হাসপাতাল চালাচ্ছেন। মূলত তিনিই হাসপাতালের হর্তা-কর্তা-বিধাতা।
হাসপাতালের টাকায় কয়েক হাজার আজীবন সদস্য করে তৈরি করেছেন নিজস্ব ভোটব্যাংক। যাতে আমৃত্যু হাসপাতালকে নিজের করায়ত্বে রাখা যায়। তাই অন্যকারো এখানে নির্বাচন করার মতো পরিবেশ নেই। ফলে এখানে ইলেকশন নয় সিলেকশনের মাধ্যমে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়।
বৈধতার জন্যে পত্রিকায় লোকদেখানো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রতিবারই জাহাঙ্গীর চৌধুরীর পরিষদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বন্ধুবান্ধব ও অনুগত ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে তিনি হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেন।
হাসপাতালটি যে জাহাঙ্গীর চৌধুরীর প্রেসক্রিপশনে চলছে এবং এটিকে নিজের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন- তা চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারি, আজীবন সদস্যদের প্রায় সকলেই জানেন। ফলে এজিএম আহবান করা হলে হাজারের অধিক আজীবন সদস্যের মধ্যে ৭০/৮০ জনের বেশি সদস্য উপস্থিত থাকেন না। হাসপাতালের কর্মচারি ও ভাড়াটে লোক দিয়ে অনুষ্ঠিত এজিএম এর খবর পত্রপত্রিকায় ছাপানো হয়।
প্রতিবারের মতো এবারও জাহাঙ্গীর চৌধুরী পত্রিকায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন। যেহেতু তিনি সমিতির বৈধ সভাপতি নন, তার নির্বাচন পরিচালনা করার কোনো আইনগত অধিকার নেই, তাই চট্টগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তর নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। গত ৫ অক্টোবর ২০২৪ জাহাঙ্গীর চৌধুরী নির্বাচনের আয়োজন করতে না পেরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে পকেট কমিটি গঠন করে সেটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।









