
নিজস্ব প্রতিবেদক: বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের উদ্যোগে পবিত্র মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় দেশবরেণ্য চারগুণীকে ‘বায়তুস শরফ স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব চট্টগ্রাম মহানগরীর কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মাঠে এ সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।‘বায়তুস শরফ স্বর্ণপদক’ প্রাপ্তরা হলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রখ্যাত প্রকৌশলী, বরেণ্য সাংবাদিক, আলোচক, লেখক, কলামিষ্ঠ দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার, নজরুল গবেষণা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাচ্ছেন দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকঅঙ্গণে বিশেষ ভুমিকার জন্য প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের কৃতিসন্তান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ সিদ্দিকী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি শিক্ষা, দর্শন ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরার কৃতি সন্তান ড. মো. ইব্রাহীম খলিলকে গুণীজন সংবর্ধনা ও বায়তুশ শরফ স্বর্ণপদক প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এতে সভাপতিত্ব করবেন রাহবারে বায়তুশ শরফ ও আনজুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা.জি. আ)। এতে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম আলোচনা করবেন।
বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ আরো জানান, ১৯৮২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সারাদেশে সাতশো প্রতিষ্ঠান রয়েছে বায়তুশ শরফের। কেবল চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসায় ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, তামাদ্দুনিক মানবসেবার প্রত্যেকটি কর্মসূচি রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা যুগ যুগ ধরে দ্বীন ইসলামের প্রচার-প্রসারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচত। মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষ্যে ১৯৯৪ সাল থেকে গুণীজনের কদর করতে এবং সমাজে তাদের অবদান জানাতে বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ.) এই সংবর্ধনা ও স্বর্ণপদক প্রচলন করেন। এ বছরও আজিজমুশ্শান মিলাদ মাহফিল, পাখ-পাখালির আসর, শানে মোস্তফা (স.) সহ পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
গত বছর এই পদকে ভূষিত হয়েছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, প্রখ্যাত ইসলামী সাহিত্যিক প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান, লেখক ও গবেষক মো. মুখলেসুর রহমান ও কবি মুহিব খান।
পবিত্র মিলাদুন্নবী উদযাপন ২০২৫ উপলক্ষে বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কর্তৃক চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচদিন ব্যাপী তামাদ্দুনিক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চম দিন জুমাবার আজিমুশশান ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ মসজিদ ভিত্তিক একটি মানব সেবামূলক সংগঠন। মসজিদ আপাত অর্থে যদিও ইবাদতগাহ কিন্তু এ কথা মনে রাখতে হবে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পার্থিব ও নবুয়তের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন মদীনার মসজিদে-নববী থেকে। এ মসজিদকে কেন্দ্র করেই বিশ্বময় ইসলাম ধর্ম বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মহানবী (সা.)-এর পরে খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে রাসূল (সা.), তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন এবং পরবর্তীতে যুগে যুগে দেশে দেশে হক্কানী-রব্বানী পীর-আউলিয়া কেরামগণ মানবতার কল্যাণে ইসলামের শান্তিপূর্ণ মিশন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই উপমহাদেশেও ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় পীর-আউলিয়া ও বুজুর্গানে দ্বীনের অবদান সর্বজন স্বীকৃত। আনজুমানে ইত্তেহাদের এতিমখানাসমূহ প্রকৃত অর্থে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কেন্দ্র। এ সংগঠন ২৬টি এতিমখানা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালনা করে থাকে, যাতে প্রায় আড়াই হাজার অসহায় এতিমের লালন-পালনের সুব্যবস্থা রয়েছে। এতিমদেরকে প্রতিষ্ঠানের খরচায় খানা-পিনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, থাকার ব্যবস্থা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দান করা হয়। তাদের পার্থিব ও ধর্মীয় শিক্ষাদান ছাড়াও সেলাই, কাঠের কাজ, প্যাকেজিং, বাজার থলে তৈরি, ছাপাখানার কাজ, বুক বাইডিং, চুল কাটা প্রভৃতিতে যত্নসহকারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থকে। এতিমদের মধ্যে যারা মেধাবী তাদের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থাও করে থাকে। তাছাড়া গরীব মেধাবী ছাত্রদের আনজুমনে ইত্তেহাদের তরফ থেকে বিভিন্ন বৃত্তি ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল এবং দেশের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আলহামদুলিল্লাহ, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত এতিমগণ আজ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করে দেশ ও জাতির খেদমত করে যাচ্ছেন।









