সমসাময়িক ব্যাংকিং সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: পোশাক শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্য কারখানাগুলোর চলমান ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানে করণীয় বিষয়ে বিজিএমইএ চট্টগ্রামের পোশাক মালিকবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় বিজিএমইএ ভবন, চট্টগ্রামের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান এবং সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী উপস্থিত থেকে সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। এ’সময় বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি জনাব এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালকবৃন্দ এমডি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাইফ উল্যাহ মানসুর, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এ.এম. চৌধুরী সেলিম, প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ খন্দকার বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ আতিক, আমজাদ হোসেন চৌধুরী, এ.এম. শফিউল করিম (খোকন), মো. আবছার হোসেন ও বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানবৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক বিজিএমইএ’র সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন- বিজিএমইএ’র পরিচালক সাইফ উল্যাহ মানসুর।

সভায় সংকট থেকে সাফল্যে বিগত এক বছরে বিজিএমইএ’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের উল্লেখযোগ্য অর্জন যেমন Exit Policy, Loan Rescheduling, প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার সরকারী আর্থিক সহায়তা উদ্যোগ, Cash Incentive এবং FOC সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকিং সমস্যা, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সদস্যদের পূর্বের ব্যাংকিং জটিলতার সাম্প্রতিক কালের পজিটিভ অগ্রগতির বিষয় উল্লেখ করে মালিকদেরকে ব্যাংকের সাথে পুনঃযোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত আমদানি নীতি ২০২৬-২০২৯-এ FOC ভিত্তিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করে সকল ক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র পাশাপাশি চুক্তিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। FOC ভিত্তিতে আমদানি সীমা তৈরিপোশাক, ওভেন ও শিশু পোশাকের কটন ফেব্রিক্স পূর্ববর্তী বছরের রপ্তানি পণ্যের শতকরা ৫০ ভাগ এবং ফেব্রিক্স (ম্যান মেইড ফাইবার) ক্রয়াদেশ মূল্যের শতকরা ৭০ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্তর্বাস ও সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি বিশেষায়িত পণ্যে সিনথেটিক ফেব্রিক্সের ক্রয়াদেশ মূল্যের শতকরা ৭০ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করে সংশোধন করা হয়েছে যা বাস্তবায়ন হলে প্রাপ্যতা নির্ধারণের জটিলতা হ্রাস সহ নতুন ও বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু হবে। ফলে FOC ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। “লোকাল/স্থানীয়ভাবে FOC ভিত্তিতে আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ দিয়ে উপঅনুচ্ছেদ (১১)-এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে শুধুমাত্র শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানীয় উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয় ঋণপত্র বা ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতে পারবে” এই অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে।ননবন্ড প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে FOC ভিত্তিতে আমদানি করার সুযোগ পাবে।

এছাড়াও তিনি কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্যাদি উল্লেখ করে বলেন: নন-বন্ডেড প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারদের বন্ড সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এইচএস কোডের প্রথম ৪টি ডিজিট সঠিক থাকলেই অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। প্রচ্ছন্ন রপ্তানিতে নন-বন্ডেড থেকে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ভিন্ন কমিশনারেটের আওতায় অবস্থিত কারখানাকে Continuous Bond সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি হারে (২%) শুল্ক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে যা আগামী ৩০ জুন, ২০৩১ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ইটিপি (Effluent Treatment Plant) পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানিতে রেয়াতি হারে (৩%) শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে যা আগামী ৩০ জুন, ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কাস্টমস সংক্রান্ত কোন মামলার বিপরীতে আপিল দাখিলের ক্ষেত্রে দাবীকৃত অর্থের ১০% এর পরিবর্তে ১% জমা প্রদানের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। করদাতারা সারা বছরব্যাপী রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, বছরের শুরুর দিকে রিটার্ন দাখিল করলে কর প্রণোদনা পাবেন। প্রতিমাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে বাধ্যবাধকতা পরিহার করে প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থাৎ ত্রৈমাসিকভাবে রিটার্ন দাখিলের বিধান প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎসে কর কর্তনকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা না করে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করদাতার উৎসে কর নিরূপিত করের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত দেয়া হবে; এ রিফান্ড হবে Automated ও Faceless।

ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন: বন্ধ ও আংশিক চালু শিল্প পুনরুদ্ধারে সরকার কর্তৃক ২০,০০০ কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে ৫,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি পুনরায় চালু করেছে, যার সুদের হার মাত্র ৫%। পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা পোশাক রপ্তনিকারকদের ৮৮৬ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। সিএমএসএমই শিল্পের সুরক্ষায় স্বল্প সুদে ৫,০০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। অনাদায়ী ঋণ আদায়/সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা (Exit Policy) জারী করে বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাকে সমুদয় দায় এককালীন পরিশোধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে (সূত্র: বিআরপিডি-১) সার্কুলার লেটার নং-২৩, তারিখ: ২৯/৬/২০২৬)। রপ্তানিকারকদের জন্য এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ঊজছ) ৭.৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো গ্যারান্টি ছাড়া অগ্রিম আমদানি পেমেন্টের সীমা ১০,০০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ ডলারে এবং নিজস্ব উৎস থেকে ৫০,০০০ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। যন্ত্রপাতি আমদানিতে বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় বিলম্বিত অর্থায়নের সুবিধাসহ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি অনুমোদন। বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাদের সমুদয় এককালীন পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে (সূত্র: ডিএফআইএমডি সার্কুলার নং-০৪, তারিখ: ১৬/৭/২০২৬)।

নগদ সহায়তা প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন: বর্তমান বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপে পোশাক শিল্পের জন্য প্রায় ২,৯০০ কোটি টাকার রপ্তানি প্রণোদনা ছাড় করা হয়েছে। নগদ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো রপ্তানির বিপরীতে সকল নগদ প্রণোদনার অর্থ হালনাগাদ করে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ছাড় করা হয়েছে। নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০% থেকে কমিয়ে ৫% নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন