
কাজী ইব্রাহিম সেলিম : চট্টগ্রাম চান্দগাঁও ভূমি অফিসে, এক আবেদনের নামজারী ১৬ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। জানানো হয়েছে আরো সময় লাগবে। গণমাধ্যমে প্রচার হলে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেছেন এসিল্যান্ড। তহশিলদার প্রতিবেদনে নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রচারিত ডিক্রি রদ ও রহিত করা হলো বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, এটিতে কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু (সেবাপ্রার্থী) আপীলকারীর অনুকূলে আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার না করার কারণে এসিল্যান্ড বিষয়টি “না বুঝতে পারার” কথা বলে নামজারী আটকে রাখেন। সেজন্য, সেবাপ্রার্থী অভিযোগ জানালে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে বিধায়, সেবাপ্রার্থীর অনুকূলে নিষ্পত্তির বিষয়টি আদেশনামার ৬.৭.৮ পৃষ্টায় লিপিকৃত তা আরো পরিষ্কার হয়েছে।
উচ্চ আদালতের আদেশ সেবাপ্রার্থীর অনুকূলে হওয়ার বিষয়টি এসিল্যান্ডকে বুঝিয়ে বলার পরও তা কোনো কাজে আসেনি, আবারো বুঝিয়ে বলতে গেলে তা কাজে আসবে না ভেবে, ২১/৯/২৫ ভুক্তভোগী ভূমি অফিসে গিয়েও এসিল্যান্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলেন। তা এসিল্যান্ড প্লাবন কুমার বিশ্বাস সিসি ক্যামেরায় দেখে দ্রæত একজন কর্মচারীকে পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে সড়ক থেকে ভূমি অফিসে ডেকে নিয়ে আসেন। এসিল্যান্ড জানান, ‘কানুনগো মশিউর রহমান আপনার কাজটি করে দিবে বলেছিলেন, কিন্তু আপনি ধৈর্য না ধরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার করার কারণে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সেজন্য কানুনগো মশিউর রহমানকে ফেনী বদলী করে দিয়েছে। এসিল্যান্ড আরো জানান, ‘তিনি সাবেক কানুনগো মশিউর রহমানকে ভুক্তভোগীর ফাইল কোথায় রাখা হয়েছে তা ফোন করে জানতে চেয়েছেন, কিন্তু কানুনগো মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের কারণে কানুনগো মশিউর রহমানকে বদলী করায় তার ক্ষতি হয়েছে সেজন্য, ভুক্তভোগীর ফাইল কোথায় আছে তা সে কেন জানাবে।’ সেজন্য এসিল্যান্ড ভুক্তভোগীকে বলেছেন, ‘আবারো কাগজপত্র জমা করলে এসিল্যান্ড নামজারী করে দিবেন।’ কিন্তু একজন বিজ্ঞ আইনজীবি নামজারীর জন্য যে কাগজপত্রগুলো দরকার হয় তা ফাইল করে দেওয়ার পর, সে ফাইল ভুক্তভোগী ভূমি অফিসে জমা করেছেন। সে ফাইলের কাগজপত্রগুলো ভূমি অফিস দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করার পর মামলার আদেশনামা জমা করতে বলা হলে তাও জমা করেছেন। সেই ফাইলটিতে কাগজপত্র সব পরিপূর্ণভাবে জমা করা হয়েছে। সে ফাইলটি তদন্ত করে তহশিলদার তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছেন। কানুনগো মশিউর রহমানও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফাইলটি তার নিকট তদন্তাধীন আছে জানিয়েছেন।” তিনি ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীকেও জানিয়েছেন, ‘ফাইলটির করণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করে এসিল্যান্ড বরাবর জমা করেছেন।’ এ অবস্থায় আবারো নতুনভাবে কাগজপত্র জমা করলে তা হবে বোকামী, আরো দেরিতে হবে নামজারী। সেজন্য, কর্তৃপক্ষ যেন সাবেক কানুনগো মশিউর রহমানকে ফাইলটি কোথায় জমা করেছেন তা এসিল্যান্ডকে জানাতে বাধ্য করেন।
২৭/৮/২৫ কয়েকজন কর্মকর্তা অত্যন্ত ভাল মানুষ বিধায় বিষয়টি নিয়ে কানুনগো মশিউর রহমানকে ডেকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সে আলোচনায় কানুনগো মশিউর রহমান ভুক্তভোগীকে জানান, ‘তিনি করণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করে ফাইলটি এসিল্যান্ড বরাবর জমা করেছেন।’ তাহলে নামজারীটা হতে আর কতদিন সময় লাগবে তা ভুক্তভোগী জানতে চাইলে কানুনগো মশিউর রহমান জানান, “সেটা এসিল্যান্ড জানেন” তবে তিনি বিষয়টি এসিল্যান্ডকে স্মরণ করে দিবেন বলে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্তও করেছেন।’ সেজন্য, দাঁয়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ, সাবেক কানুনগো মশিউর রহমান যেন এসিল্যান্ডকে বিষয়টি আবারো স্মরণ করে দিয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নামজারী করে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, সে অনুরোধ ১৬ বছরের ভোগান্তির শিকার সেবাপ্রার্থীর।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক, সহ দপ্তর সম্পাদক চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটি।









