
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি ও দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের বুকে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদকে পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীর আদলে পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মারক হিসেবে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটির ধারণক্ষমতা কমে আসা এবং কিছু অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন নকশায় মসজিদের মূল ঐতিহাসিক স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখেই আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হবে।
বর্তমানে যেখানে প্রায় ৩ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, সেখানে নতুন প্রকল্পে ১৪ হাজারের বেশি মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য ৫০০ জনের পৃথক নামাজের স্থান, শিশুদের জন্য কিডস জোন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ প্রবেশপথ নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পে থাকবে একটি ইসলামী ঐতিহ্য জাদুঘর, ইসলামি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, কনফারেন্স রুম, মাল্টিপারপাস হল, সুবিশাল লাইব্রেরি এবং ফুড কোর্ট। এছাড়া থাকবে সুউচ্চ মিনার এবং মসজিদের কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের ফান্ডে থাকা ১১ কোটি টাকা দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। বাকি অর্থ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘এইজ এন্ড এজ আর্কিটেকচার স্টুডিও’-এর স্থপতি সাদিকুল বাশার এবং সাবরিনা আফতাব মসজিদে নববীর আদলে এই দৃষ্টিনন্দন নকশা প্রণয়ন করেছেন। তারা জানান, মুঘল ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সংযোগ ঘটানো হয়েছে এবং মসজিদের অভ্যন্তরে ইবাদতের শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ আবারও এই অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।









