
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: এখন থেকে ১৬ ঘন্টা পর দেশের মানুষের কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বরাবরই একটি নির্বাচনমুখী দল। এবারও আমরা বৃহত্তর সুন্নি জোটের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রামে ৬ টি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীরা মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
প্রার্থীরা প্রত্যেকে স্ব স্ব এলাকায় সুপরিচিত যোগ্য ও উচ্চ শিক্ষিত। তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও জনসমর্থন দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী কথিত প্রভাবশালী প্রার্থীদের ঘুম হারাম হয়েছে, তারা উপায় না পেয়ে এখন সমাজে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়াচ্ছে।
গত সোমবার রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এড. ইকবাল হাসানের উপর প্রকাশ্য হামলা করে হত্যাচেষ্টা করেছে, রাউজানের প্রার্থী মাওলানা ইলিয়াস নুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় কয়েক দফা হামলা করা হয়েছে, চন্দনাইশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান ফারুকীকে অর্থবিত্তের লোভও নেমে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি দেয়ার পরও তিনি চন্দনাইশের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন নিয়ে যখন নির্বাচন করছেন এবং তার পক্ষে গণজোয়ার দেখে হিংসুকরা এখন প্রার্থীর সমর্থক, ইসলামী ফ্রন্ট ও ছাত্র সেনার কর্মী এমনকি ভোটারদেরও মোমবাতিতে ভোট দিলে দেখে নেবে বলে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন৷ একই অবস্থা আনোয়ারা -কর্ণফুলীতেও। আমরা জেনেছি একটু আগে রাউজান কদলপুর এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে সাধারণ ভোটার ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতা কর্মী পরিচয়ে অনেকে নির্বাচনের পরে দেখে নেয়ারও হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা নির্বাচন কমিশম, রিটার্নিং অফিসার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি পক্ষান্তরে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার শামিল। এজাতীয় কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
আমরা হুমকিদাতাদের ব্যাপারে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে ভোটারদের কুচক্রী মহলের যেকোন ষড়যন্ত্র, উস্কানি ও হুমকিকে প্রশ্রয় না দিয়ে ভোটকেন্দ্র গিয়ে মোমবাতি প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
আজ ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সন্মেলনে দলের মহাসচিব এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট একটি শান্তপ্রিয় দল। যারা সুফিবাদী আদর্শকে ধারণ করে এদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতাদর্শ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে আসছে। দীর্ঘ চারদশক প্রায় আমাদের সংগ্রামে আমাদের নীতি হচ্ছে অহিংস রাজনীতি। আমরা এদেশের জনগণের চাওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করি।
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক এটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে যেভাবে একটি দলের নেতা কর্মীদের ঘরে অফিসে ব্যালেট ও শীল পাওয়া যাচ্ছে তাতে সাধারণ ভোটাররা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না।
আমরা বিশ্বাস করি মানুষ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নারায়নগঞ্জ, কুষ্টিয়া, খুলনায় যেখানে বহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী দিয়েছে সেখানে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।
তিনি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও পটিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করার আহবান জানিয়ে ভোটারদের সকল অপপ্রচার মোকাবেলা করে নির্ভয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
সাংবাদিক সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় নতা এনামুল হক সিদ্দিকী, নাসিরুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ইউনুস তৈয়বী, এম. মহিউল আলম চৌধুরী, মাওলানা আবদুন্নবী আলকাদেরী, নুরে রায়হান চৌধুরী, ছাত্র নতা ফরহাদুল ইসলাম, আরমান, আলম রেজা, আবরার সকরকন্দি প্রমুখ।









