
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জেলেদের নিরাপত্তা প্রদান এবং সমুদ্র ও নদীপথে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বোপরি সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন অধীনস্থ জাহাজ এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন বোটের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে টহল, নজরদারি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিউআরএফ ও ডাইভিং টিম মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে আসছে। কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর, ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে একটি নিরাপদ বন্দরে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দেশ হতে বহিঃনোঙরে আগত তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে কোস্ট গার্ড জাহাজ সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত রয়েছে।
এছাড়াও কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন আওতাধীন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু নির্মূল এবং মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি একাধিক বিশেষ অভিযানে ১৪টি দেশী ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ৪ রাউন্ড তাজা গোলা, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ ৩৫ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে।
একই সাথে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৬ লক্ষ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা, ২ কেজি ২৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ১৪ কেজি গাঁজাসহ ৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। সমুদ্রে ডাকাত বিরোধী অভিযানে ডাকাতের কবলে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও, সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দী থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৭৪ জন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারসহ ২৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়।
পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ভোজ্য তেল ও খাদ্য দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে বিভিন্ন অয়েল ট্যাংকার ও লাইটার জাহাজে ভোজ্য তেল ও খাদ্যদ্রব্য মজুত রোধকল্পে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাহাজ কর্তৃক গত এক মাস যাবৎ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফলশ্রুতিতে, বাজারে খাদ্য দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট রোধ করা সম্ভব হয়েছে এবং মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন চট্টগ্রাম জেলার সদরঘাট, বাংলা বাজার ঘাট, কর্ণফুলি ঘাট, ব্রিজ ঘাট, কুমিড়া ঘাট ও গুপ্তছড়া ঘাট এবং কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার ৬ নং ঘাট ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাট, আদিনাথ মন্দির ঘাট, মগনামা ঘাট, বড়ঘোপ ঘাট ও দরবার ঘাট এর গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ও খেয়া সমূহে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার লক্ষ্যে টহল প্রদান, জনসচেতনতা মূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ, জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম পরিধান নিশ্চিতকরণ এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযান সমূহে তল্লাশি সহ অন্যান্য নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুষ্কৃতিকারীরা যেন কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করতে না পারে তার জন্য সদা তৎপর রয়েছে কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য। যার মাধ্যমে যাত্রীদের নৌযাত্রা নিরাপদ থাকবে বলে আশা করা যায়। কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের এ ধরনের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তী যাত্রীসাধারণের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সর্বোপরি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুনীল অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধশীল করার লক্ষ্যে সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও দেশের মানুষের সেবা ও সমৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতেও উক্ত কার্যক্রমসমূহ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তাঃ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদ, (জি), বিসিজিএম, পিসিজিএম, পিএসসি, বিএন – জোনাল কমান্ডার, পূর্ব জোন)









