
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপ-পরিচালকের সঙ্গে ফায়ার লাইসেন্স নবায়নে জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের কিছু কারখানা অনেক বড় হয়ে গেলেও অধিকাংশ কারখানা এখনও ছোট বা মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এই ছোট কারখানাগুলো উৎপাদনে ৬৫% সহযোগিতা করে দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। নানা প্রতিবদ্ধকতার কারণে কারখানাগুলোর কিছু ছোট সমস্যা থাকে। আমি ফায়ার সার্ভিসকে বলব- তাদের সমস্যাগুলো বড় করে দেখে ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখা উচিত নয়। কারণ ছোট সমস্যার কারণে তাদের ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখলে চট্টগ্রামে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এর বড় প্রভাব পড়বে জিডিপিতে। একইসঙ্গে বেকার হবে দেশের লাখ লাখ শ্রমিক।
তিনি বলেন, বিদেশের কারখানাগুলোতে ফায়ার সেফটি আইনে ১০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ফায়ার হাইড্র্যান্টের বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু দেশে একতলা কারখানা ভবনেও হাইড্র্যান্ট বাধ্যতামূলক। বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। এছাড়া ফায়ার সেফটি প্ল্যান ঢাকা থেকে অনুমোদন করতে হয়। প্ল্যানও ৩০টি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হয়। যদি এ প্ল্যান বুয়েট অথবা চুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে তৈরি করে চট্টগ্রাম থেকে অনুমোদন নেওয়া যায় তাহলে অধিকাংশ কারখানা তাদের ফায়ার লাইসেন্স সহজে নবায়ন করতে পারবে।
বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. সাইফ উল্যাহ মানসুর বলেন- প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা। রাজনৈতিক বিবেচনায় কোন উদ্যোক্তাকে হয়রানি করা যাবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো কোন ধরনের আইনের অযুহাত দেখিয়ে বন্ধ করা যাবে না। কারখানার জন্য তিনটি সেফটি (ভবন, অগ্নি ও বিদ্যুৎ) কমপ্লায়েন্স বাধ্যতামূলক হলেও বিএনবিসি কোড অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো তৈরি নয়। কারখানাস্থিত ভবনগুলোর লোকাল লোড ক্যাপাসিটি অনুযায়ী মেশিনারি ও জনবল সেটআপ করে আইন এবং বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চালু কারখানাগুলোর ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করে দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পোশাকশিল্প কারখানাগুলোকে অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিস নিরলস কাজ করছে। দেশের শিল্প কারখানাগুলো নিরাপদ রাখতে আমি সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ কাজ করছি। আমি পোশাকশিল্প মালিকদের আশ^স্ত করতে চাই- যত দ্রুত সম্ভব ফায়ার লাইসেন্স নবায়নে জটিলতা নিরসন করবো।
সভায় বক্তব্য রাখেন- বিজিএমইএ’র পরিচালক, রাকিবুল আলম চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক মোহাম্মদ মুসা, ডিজাইন এ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইলিয়াস চৌধুরী, ইউনিভার্সেল সুয়েটার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাইজুল মতিন, ফ্যাশন অব ওয়ালস্্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএ’র পরিচালকবৃন্দ সাকিফ আহমেদ সালাম, এনামুল আজিজ চৌধুরী সহ পোশাক শিল্পের মালিকবৃন্দ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম ও বিজিএমইএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।









