চলাচল সীমিত, জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র আন্তরিক, এলাকা পরিদর্শনে বিরোধী দলীয় নেতা

কামরুল হুদা: চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। জলাবদ্ধতা দূর করতে সিডিএ, ওয়াসা এবং সেনাবাহিনীর মতো সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি খাল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

টানা অতিভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং পানি জমে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোর অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরের খাজা রোড, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার, তিন পোলের মাথা, চান্দগাঁও, শমসেরপাড়া, খরমপাড়া, সুন্নিয়া মাদ্রাসা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, উত্তর আগ্রাবাদ, রামপুরা, হালিশহর, আকবরশাহ সিডিএ আবাসিক এলাকার অলিগলিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছিল।

অব্যাহত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও মাদারবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রেললাইনে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। চন্দনাইশের হাসিমপুরসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।

ভারী বর্ষণে নগরের মূল সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলের সংখ্যা ছিল কম। লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। যানবাহনের সংকটের কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রচুর বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং চলছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা পঞ্চম দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শুক্রবার সকাল ও দুপুর বৃষ্টি না হলেও বিকালে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলু, টঙ্কাবতী, মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নগরে সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকা পানিও নামতে শুরু করেছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় সড়কের পানি নেমে গেলেও ঘর-বাড়িতে পানি আটকে থাকায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। অনেক বাসা এখনও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে আছে।
অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। অনেক সড়কে যানবাহনের চাপ কমে গেছে। তবে টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও জলাবদ্ধতা নাগরিকদের ভুগিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। জেলার একাধিক উপজেলায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাহায্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত। বন্যা কবলিত এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সাহায্য একেবারেই অপ্রতুল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর দিয়ে বইছে হাঁটুপানি। ফলে মহাসড়কের দুই প্রান্তের যানবাহন চলছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। এদিকে রাতে জোয়ারের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল বাড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে দেখা গেছে, মহাসড়ক দিয়ে হাঁটু পানি প্রবাহিত হতে। স্থানীয়রা জানান, ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি চলাচল করছে।

অন্যান্য উপজেলার মধ্যে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সেখানে অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া বাকি সবকটি ইউনিয়ন দুর্গত হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪ হাজার লোক পানিবন্দি এবং সুরক্ষায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া লোহাগাড়ার সাঙ্গু ও ডলু নদী সংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে আমিরাবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সাঙ্গু, ডলু ও হাঙ্গর খালের পাহাড়ি ঢল ভাটি অঞ্চলে নামতে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বানভাসি মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে, সেজন্য এসব বরাদ্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং শুলক বহর ওয়ার্ডের স্টেশনের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ে চশমা হিল এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় মাটি চাপা পড়ে সুমাইয়া আক্তার ১২ নামে একটি মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

রাউজানে নালার স্রোতে ভেসে গিয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। শিশুর নাম মোহাম্মদ মোস্তাকিম। সে ওই এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের ছেলে। গত কয়েক দিনের বর্ষণে নালার স্রোত বেশি থাকায় সে ভেসে যায়।

পাহাড় ধসে মোট ৪ জনের মৃত্যু হলো চট্টগ্রামে। এরমধ্যে মঙ্গলবার সকালে নগরীর রহমান নগরে এক যুবকের মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে জঙ্গল সলিমপুরে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে এ অঞ্চলের তিন জেলায় ২২ জন মারা গেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টি হচ্ছে পাচ দিন ধরে। গতকালও সকালে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এই বৃষ্টি চলবে আরও দুই দিন।

নগর প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং দেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি বিনীত আহ্বান- দলমত নির্বিশেষে দ্রুত সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করুন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এমপি। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

শুক্রবার মেয়র ও সংসদ সদস্য অক্সিজেন, ওয়াজেদিয়া, কুয়াইশ, চাইল্যাতলী, হাজীপাড়া, আতুরার ডিপো, চান্দগাঁও হাজিরপোল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল এলাকা, শমসেরপাড়া এবং অন্যান্য আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তারা কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করেন।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। এসব এলাকায় কেন পানি দ্রুত নামছে না, তা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, “যেসব নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে, সেগুলো থেকেও খুব শিগগিরই পানি নেমে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পানিবন্দি মানুষের পাশে বর্তমান সরকার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা রাখা হবে না।”

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এমপি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৩৬ টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ শেষ হলে প্রকল্পের অধীন খালগুলো সংরক্ষণ এবং প্রকল্পের বাইরে থাকা বাকী খালগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো পুনঃখনন ও সংস্কার করার জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এক্ষেত্রে খাল সংলগ্ন এলাকাগুলোকে সৌন্দর্যবর্ধন করে পর্যটনস্পট গড়ে তোলার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলেও জানান মেয়র।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ সহায়তা বিতরণ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গতদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।

চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি সরাসরি বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখেন, অনেক ঘরবাড়ি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এছাড়াও বিরোধীদলীয় নেতা সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

মন্তব্য করুন