
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, সহকারী সেক্রেটারি আ. ন. ম. জোবায়ের এবং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল হুদা।
বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের শহীদ এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সরকারি গেজেটভুক্ত করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সরকারি দলকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের স্মরণে রাখতে হবে যে, তাদের বিপরীত অবস্থানেও দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর গণসমর্থন রয়েছে। তাই সকলের মতামত ও রাজনৈতিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন এবং জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে নতুন বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতিতে সকলকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আদিবাসী আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র নয়। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ৯ আগস্টকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকল রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক চেতনা, জাতীয় ঐক্য এবং দেশ গঠনে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।









