খাতুনগঞ্জের ডিও ও স্লিপ বাণিজ্যই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

কে. এম আলী হাসান: দেশের নিত্যপণ্যে দ্রব্য সামগ্রীর দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। নিত্যপণ্য দ্রব্যের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরে রাখতে পারছে না। এই ক্ষেত্রে সরকার কোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ফলে দেশের মধ্যবিত্তের বিশাল জনগোষ্ঠী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠি চরম অভাব অনটনে আছে।
সারাদেশের পাইকারী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজার। এখানে এখন সবকিছু সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রতিদিন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের সোনাদিয়া মার্কেট ও উত্তরা ব্যাংক ভবনের নতুন মার্কেট এবং তার আশে পাশে বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরাই তেল, চাল, ডাল, চিনিসহ প্রভৃতির দাম উপরে তোলে এবং নামায়। তাদের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে গোটা দেশের মানুষের।
প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য দ্রব্যসামগ্রীর দিন দিন মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ নাগরিকেদের জীবন দিশেহারা। এই ক্ষেত্রে সরকার যদি কিছু কৌশল অবলম্বন করে তাহলে এসব সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রথমত যা করতে হবে তাহলো মিলওয়ালা ও আমদানী কারকদেরকে ধরতে হবে তোমরা কতগুলো ডিও বিক্রি করেছো?
ডিও নাম্বার এবং কার কাছে বিক্রি করেছে তাদের নাম ও ঠিকানা বের করতে হবে। ২। সেই গুদামে ও মিলে গিয়ে নাম্বার চেক করে কোন নাম্বার থেকে ডিও ডেলিভারী হয়েছে? আর কোন নাম্বারে ডিও বিক্রির ডেলিভারী হয়নি। যেগুলো অর্থাৎ হাত বদল হচ্ছে মূলত তারাই মূল্য বৃদ্ধি করছে। ৩। মিলওয়ালা এবং আমাদানীকারক কত দামে বিক্রি করেছে তার সাথে বর্তমান বাজার দরের মিল আছে কিনা? তখন ধরা খেয়ে যাবে। ৪। স্লীপ ব্যবসা নামে জুয়া খেলা: খাতুনগঞ্জের সোনামিয়া মার্কেট ও উত্তরা ব্যাংক এর নীচতলা, দ্বিতীয় তলা ও আশে-পাশ্বের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রাতষ্ঠানগুলোর স্লীপ বিক্রির ব্যবসা বেশ জমজমাট।
এটি এক ধরনের জুয়া খেলার মতো, একটি স্লীপের মূল্য ৫ হাজার/ ১০ হাজার টাকার মতো। অর্থাৎ যারা ডিও ক্রয় করতে পারে না তারা অগ্রীম ৫ হাজার অথবা দশ হাজার টাকা দিয়ে তেল, চিনি, ডাল ইত্যাদির স্লীপ ক্রয় করে স্লীপের বিপরীতে মালামাল ডেলিভারী দিতে পারবে না। একটি নির্দিষ্ট তারিখ নেয়, ঐ তারিখের মধ্যে বাজার দর বেড়েগেলে কিছু লভ্যাংশ দেয়। যে পণ্যের স্লীপ কেটেছে ঐ পণ্যের দাম কমে গেলে ঐ স্লীপ ক্রয়ের টাকা ফেরত দেয় না। ঐ টাকাটা খোয়া যায়। এই ধরনের স্লীপ বেচা-কেনা নিয়েও জুয়া খেলা চলছে খাতুনগঞ্জের মার্কেটে।
অনেকে এই ব্যবসা করে সর্বশান্ত হচ্ছে। আর কেউ ১/২টি স্লীপ ক্রয় করে না। একেক জনে ২০/৩০/৫০/ ১০০টি স্লীপ পর্যন্ত ক্রয় করে।
অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ এই স্লীপ ব্যবসা বন্ধ করতে পারলেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে। জানা যায়, খাতুনগঞ্জের মার্কেটে ব্যবসায়ীদের হাতে যতগুলো ডিও আছে তথগুলো মালামাল মিলওয়ালাদের মালিকের হাতেও নেই।
তাই জনস্বার্থে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যতায় দেশের সাধারণ বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠী দুঃখ দুর্দশা লাগব হবে না।
দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের, মধ্যবিত্ত সমাজের দুইবেলা আহার ঠিকমতো করার জন্য এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ফেলতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামাতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ শাস্তিতে থাকতে পারবে না। এসব ব্যবসায়ীরা খুবই চালাক তারা সর্বদা সরকার দল করে।

মন্তব্য করুন