
বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নিয়মিত সভায় সংগঠনের স্হায়ী পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন চট্টগ্রামে ডেঙ্গু দিনদিন মহামারীর আকার ধারণ করছে! চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি সব হাসাপাতালেই ডেঙ্গু রোগীব গিজগিজ করছে। কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর জন্য কোনো বেড খালি নেই। এমনকি হাসপাতালের বারান্দাতেও রোগী রাখার আর জায়গা নেই! এদিকে মেয়রের ক্রাশ প্রোগ্রামেও মশা মরছে না। মশা না মরলেও মরছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষ!
নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করতে নারাজ চট্টগ্রামের সবগুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগ তাই নিজেদের বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন! তবে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ সব সংস্থা। তাই মানুষের মধ্যে এখন নীরবে ছড়াচ্ছে আতংক!
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশার মারতে ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়ার বিষয়টাও সামনে আসছে। অথচ চসিকের এমন জোরদার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছেনা। মশা নিধনে সংস্থাটির ব্যবহৃত ওষুধ আদৌ কাজে আসছে কি না,সেটা নিয়েও সন্দেহ শহরের মানুষের!
মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো। মানুষও এদের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে।
তিনি অদ্য ২৬ সেপ্টেম্বর’২৬ শনিবার বিকাল ৪ টায় দৈনিক পূর্বকোণ কার্যালয় মরহুম ইউসুফ চৌধুরী কনফারেন্স হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নিয়মিত সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন, মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন। চট্টগ্রাম নগরী ময়লা, আবর্জনার ভাগারে পরিনত হয়েছে রাস্তায় চলাচলের সময় ময়লার গন্ধে নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হয়, ফুটপাত হকারদের দখল ও সড়ক গুলোতে এলোপাতাড়ি গাড়ির দখলে থাকায় জন ভোগান্তির শেষ নাই, অপরিকল্পিত ভাবে নির্মিত ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ে হতে যত্রতত্র বৃষ্টির ময়লা পানিতে জনমানুসের ভোগান্তি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর, শহরের সড়ক ও রাস্তা গুলোর দুরাবস্থার কারনে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে খুন, ছিনতাই, অপহরন রাহাজানি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহরে পরিনত করতে এবং ঘোষিত বানিজ্যিক রাজধানীর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী।
মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর বলেন চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে বিগত এন্টরিয়ম গভঃমেন্ট কালুরঘাট রেলকাম সড়ক সেতুর নির্মানে উদ্বোধনী ফলক উম্মোচন করার দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও সেতু নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান নাহওয়ায় চট্টগ্রামবাসী উদ্ধিগ্ন। আদৌও কালুরঘাট সেতু নির্মাণ হবে কিনা চট্টগ্রামের মানুষ জানতে চাই। স্হায়ী পরিষদের সদস্য লায়লা ইব্রাহীম বানু বলেন চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সরকার বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে অথচ দেশের রাজস্বের সিংহভাগ যোগানদাতা এই চট্টগ্রাম। বন্দর নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসী মেনে নিবেনা।
স্হায়ী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক নুকম আকবর হোসেন বলেন চট্টগ্রামের উন্নয়ন করনীয় নির্ধারন করে দাবী আদায় সোচ্চার হবার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহবান জানান। সভায় বক্তারা বলেন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় দফায় দফায় জালানী তেলের মুল্য বৃদ্ধি করায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু- হু করে বাড়ার মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সুপেয় পানির মুল্য বৃদ্ধিতে জনগন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।এতে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির স্হায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর, বক্তব্য রাখেন স্হায়ী পরিষদের সদস্য লায়লা ইব্রাহীম বানু, অধ্যাপক নুকম আকবর হোসেন, সি সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইব্রাহীম, অর্থ সম্পাদক লায়ন মুহাম্মদ নুরুল আলম, এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, কাজি গোলাপ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিকরুল হাবিবিল ওয়াহিদ, প্রফেসর বাহার উদ্দিন জোবাইর, সালাউদ্দিন আহমেদ, এম হামিদ হোছাইন, নোমন উল্লাহ্ বাহার, এম গোফরান চৌধুরী, হাসান সিকদার, নুরুল ইসলাম রিপন, এম কপিল উদ্দীন রানা, এম আহমেদ রেজা, এড, মাসুদুল ইসলাম রাশেল, মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল আমিন, এম আর শাহিন ও আবুল কালাম প্রমুখ।








