
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) কাউন্সিলরদের না জানিয়ে পদ দখল ও নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ আবারও ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার চেষ্টা করছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। এটি ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, কাউন্সিলর ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের প্রতিষ্ঠান। কাউন্সিলরদের মতামত উপেক্ষা করে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিজেকেএসের নেতৃত্ব নির্ধারণে কাউন্সিলরদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ধরনের গোপন বৈঠক বা সমঝোতার মাধ্যমে পদ-পদবি নির্ধারণ না করে প্রকাশ্য আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধা নেওয়া এবং ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করা ব্যক্তিদের একটি অংশ এখনো সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেননি তাঁরা। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা সিজেকেএসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সিজেকেএস কাউন্সিল প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। চিহ্নিত আওয়ামী লীগপন্থী সুবিধাভোগী ও তাদের সহযোগীদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং দীর্ঘদিনের পুরোনো কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এডহক কমিটিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাবে যেন ভোটার তালিকা প্রণয়ন না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।
বিক্ষোভে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিশকাত সিকদার, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মো. শহিদুল ইসলাম সজিব ও শাখাওয়াত কবির চৌধুরী সাফি, ওমর গনি এমইএস কলেজের সাবেক সংগঠক বাবর চৌধুরী, চট্টগ্রাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজের সমন্বয়ক তানভির আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ক রানা মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগর কর আইনজীবী সমিতির সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজের সমন্বয়ক মো. শাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজের সমন্বয়ক মো. জুয়েল সদস্য সমন্বয়ক রিংকু দাশ, সাবেক সংগঠক মোহাম্মদ তাওহীদ আলিফ, রেজাউল মোস্তফা ও আদিত্য সেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।









