কক্সবাজারে ইপসা’র আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সেবা ও জবাবদিহীতার মন-মানসিকতা নিয়ে দায়িত্বশীল মানবিক কর্মী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা প্রতিষ্ঠান ও কর্মী উভয়ের জন্য একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল কাজ। এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ, কৌশল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নীতিমালা সমন্বিতভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যৌন শোষণ ও নির্যাতন থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সবার দায়িত্ব। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আচরণবিধি জানা এবং বাস্তবে তা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইপসা এইচআরডিসি-কক্সবাজার ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইপসা’র কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম, অগ্রগতি, আর্থিক কমপ্লায়েন্স, মানবিক সাড়া এবং স্থানীয়করণ নিয়ে আলোচনা হয়।

সমন্বয় সভায় পিএসইএ বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন রোহিঙ্গা কোঅর্ডিনেশন প্লাটফর্ম (আরসিপি) পিএসইএ নেটওয়ার্ক’র কোঅর্ডিনেটর রাজীব রহমান। তিনি বলেন, “পিএসইএ শুধু একটি নীতিমালা নয়; মানবিক কার্যক্রমে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির আচরণ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত”। তিনি আরও বলেন, পিএসইএ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতার প্রয়োজন। পিএসইএ বিষয়ক কার্যক্রম ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতার সৃষ্টি করতে হবে।

সভায় লোকালাইজেশন বা স্থানীয়করণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সমন্বয় বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ সেশন পরিচালনা করেন এনজিও প্লাটফর্ম কক্সবাজার’র পার্টনারশিপ ও কমিউনিকেশন এডভাইজার আমির হোসেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে কার্যকর সাড়া নিশ্চিত করতে স্থানীয় অংশীজনদের সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। স্থানীয় সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে”। তিনি আরও বলেন, “লোকালাইজেশন মানে শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও মানবিক সাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় অংশীজনদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।”

সভায় ইপসা’র কক্সবাজারে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বন্যা মোকাবিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন, সুরক্ষা, যোগাযোগ এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয় উপস্থাপন করা হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। ইপসা সিনিয়র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর শমসের উদ্দিন মোস্তফার সভাপতিত্বে সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন ইপসা’র উপ-পরিচালক ও আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং ইপসা’র সহকারী পরিচালক যীশু বড়ুয়া।

আঞ্চলিক সমন্বয় সভার প্রধান অিতিথির বক্তব্যে ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি সংকট পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে মানবিক সহায়তায় ইপসা’র অংশগ্রহন ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে জরুরী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকরীভাবে ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সবাইকে যার যার জায়গা থেকে মানুষের জন্য কাজ করার পাশাপাশি নিজের সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইপসা তাঁর স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।” তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার, সেবা ও জবাবদিহীতার নিশ্চিত করে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। দিনব্যাপী এ সমন্বয় সভায় ইপসা কক্সবাজার অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের প্রধান, ফিন্যান্স ও এডমিন অফিসার এবং মনিটরিং অফিসারবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

 

 

মন্তব্য করুন