বেতার-টিভিতে চট্টগ্রামের শিল্পীদের বৈষম্যমুক্ত করার দাবি

নিউজগর্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্র, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।

বিগত ১৭ বছরে যেসব শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়স্থ লুসাই ভবনের তৃতীয় তলায় চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।

জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ চট্টগ্রামের সভাপতি সাংবাদিক কামরুল হুদার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি কবি এম এ হাশেম আকাশ, গীতিকার ও সুরকার দিলীপ ভারতী, সংগীতশিল্পী ও সুরকার সৈয়দ জিয়া উদ্দিন, নাট্যকার রতন চক্রবর্তী, সংগীতশিল্পী ফরিদুল ইসলাম, সংগীতশিল্পী এস কে মানিক, কবি ও রাজনীতিক জহিরুল ইসলাম জহির, সংগীতশিল্পী জুয়েল দ্বীপ, নারী নেত্রী ও নারী উদ্যোক্তা শামীমা ইয়াসমিন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক জাসাস নেতা সরওয়ার আলম মনজুসহ অনেকে।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য বা সুবিধাবাদী সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে এবং বেতার-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মান আরও উন্নত করতে হবে।

সভায় বেতার ও টেলিভিশনের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে, সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতিকে জাতীয় সম্প্রচারে আরও বেশি তুলে ধরতে হবে। এজন্য চট্টগ্রামের শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, কবি, নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্তব্য করুন