
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে জনস্বার্থে জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাচ্ছে। জনগণের এ জাগরণকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ক্ষমতাসীন মহল একের পর এক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে। দেশবিরোধী নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দায়িত্বশীলদের সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিচক্ষণতা ও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
আজ জুমাবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮.৩০ টায় বাঁশখালী ক্যাফে-৯৮ কমিউনিটি হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার রুকনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, মাওলানা মোস্তফিজুর রহমান।
জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও বাঁশখালী গণমানুষের নন্দিত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এডভোকেট আবু নাছের, সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, মাওলানা আরিফুর রশিদ, বাঁশখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল, পৌরসভা আমীর মাওলানা আবু তাহের, মোহনা থানা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূলতঃ বৈষম্য দূর করার জন্য, কিন্তু জুলাই পরবর্তী সরকার পুনরায় জুলুম নিপীড়ন করে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। গণভোটের গণরায় মেনে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সাথে টালবাহানা করছে সরকার। জনগণের সুখ শান্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দ্বারা কখনো আশা করা যায় না। মূলতঃ রাসুল (সাঃ) এর অনুসৃত পথ অনুসরণ ব্যতীত শান্তিপূর্ণ সমাজ কায়েম সম্ভব নয়।
সরকারকে হুশিয়ার করে তিনি আরও বলেন, দূর্নীতি ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি সরকার সর্বপর্যায়ে দলীয়করণের মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খেতে চায়। জনগণ সরকারের এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দিবে না। বর্তমান উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিচক্ষণতা ও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর হক বা ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ে রুকনদের ক্ষেত্রে আরও উন্নত চরিত্র গঠন করতে হবে। নিজের পছন্দের ভিত্তিতে অন্যের জন্য পছন্দ নির্ধারণ করতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। আয়-উপার্জন, ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে আল্লাহর ভয় থাকতে হবে। লেনদেন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত পন্থা অবলম্বন করার আহবান জানান।
অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দ্বীন কায়েমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। হালালভাবে উপার্জন করা, হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকতে হবে। কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। দ্বীন ইসলামকে একমাত্র জীবনোদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহবান জানান।
রুকনিয়াতের মর্যাদা ও গুরুত্ব উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, রুকনগণ সংগঠনের নেতৃত্ব বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিস্ক্রিয়তা, নৈতিক স্খলন যেন আমাদের পেয়ে না বসে সেজন্য রাতে আল্লাহর কাছে ধরনা দিতে হবে। মানুষের কাছে জবাবদিহির চেয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির প্রতি ভয় রেখে জীবনকে পরিশুদ্ধ করার আহবান জানান।
মাওলানা মোস্তফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সরকার নিজেদের পরাজয় হবে ভেবে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে। সরকার ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে নিয়ে গঠনমূলক পরিকল্পনা করছে না, বরং লুটেপুটে খাওয়ার জন্য নিজেদের দলীয় অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের চেয়ারে বসিয়ে সংকীর্ণতার পরিচয় দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে আজ মাদকের ছড়াছড়ি। দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করছে। একের পর এক ঘটনা ভাইরাল হলেও সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং ফ্যাসিস্টদের অফার দিয়ে দায়মুক্তি দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। জনগণ সকল ষড়যন্ত্র জীবনবাজি রেখে প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ। দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থাকার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, আজকের শিক্ষাশিবির রুকনদের জ্ঞান ও চিন্তার জগতে বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হবে। আমাদের ইলম চর্চা ও আমলী জিন্দেগী সুন্দর হলে সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। আশা করি দায়িত্বশীলদের আলোচনা নিজের জীবনে ধারণ করতে পারলেই আল্লাহ ও রাসুলের প্রিয় মানুষ হতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।









