নৈতিক অধঃপতনের স্রোত থামাতে ব্যর্থ হলে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে: নজরুল ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মাদকের বিস্তার এবং নৈতিক অধঃপতনের ভয়াবহ স্রোত রোধে সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ বিআইএ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও নগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলমসহ মহানগরী ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নজরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে অবরোধ, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় দেশবাসী উদ্বিগ্ন। বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজধানীর ভাটারায় মাদক ও ডিজে পার্টির আসর থেকে ৮৫ জনকে আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নৈতিক অধঃপতনের উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা তুলে ধরেছে। অপরাধ দমন করতে গিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন অমান্য করার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগার কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে তরুণ নিহত হওয়া এবং চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্লট দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলো নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণ ও উদ্ধারের ঘটনাও প্রমাণ করে, অপহরণ ও সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও অপহরণ বন্ধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নির্মূলে সরকারকে দল-মতনির্বিশেষে কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিণতি দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

 

মন্তব্য করুন