
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তি একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উত্তম হাতিয়ার হচ্ছে উন্নত নৈতিক চরিত্র ও দৃঢ় ঈমান। এ দুই হাতিয়ার নিশ্চিত করতে পারলে বিরোধীরা আমাদের কখনো পরাজিত করতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক ও আদর্শিক শক্তি অর্জনের মাধ্যমে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
আজ জুমাবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টায় কেরানীহাট সী ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্ট হল রুমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা এবং কালারপোল থানা উপজেলার রুকনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক।
জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর ড. মাওলানা হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আ ক ম ফরিদুল আলম, মাওলানা আরিফুর রশিদ, অফিস ও মানবসম্পদ বিভাগের গিয়াস আজাদ চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, পটিয়া উপজেলা আমীর মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানা আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, কালারপোল থানা আমীর মাষ্টার এস এম নাছির উদ্দীন, সাতকানিয়া পৌরসভা আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দীন আজাদ, বোয়ালখালী পৌরসভা আমীর মাষ্টার মুহাম্মদ হারুন, কেরানীহাট শাখার আমীর মাওলানা নাছির উদ্দীন সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহারে মানুষ হত্যায় জড়িত খুনীদের বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণের সংকীর্ণতা পরিহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাচ্ছে। জনগণের এ সম্পৃক্ততাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দেশবিরোধী শক্তি একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আমাদের চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ন্যায় নিজেদের অধীনে নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার ঘোষণা দিয়ে কী বুঝাতে চায় জাতির কাছে তা স্পষ্ট। একদিকে নির্বাচনে দলীয়করণ ও ভোটারদের সরকারী দলের হুমকি এবং ভোটদানে অনিয়ম ইত্যাদি মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সেসব বিষয়ে সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে নির্লজ্জভাবে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহ সংবিধান সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, তৃণমূলে সংগঠনের মজবুতি অর্জনের লক্ষ্যে কর্মীদের মান নিশ্চিত করতে হবে। ময়দানের চাহিদার আলোকে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য দায়িত্বশীলদের ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার মাদক। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আর বর্তমান সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি নিজ দলীয় নেতাকর্মীদেরও মাদক ব্যবসায়ে সম্পৃক্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার জন্য দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থাকার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, নিজের পছন্দ অনুযায়ী অন্যের পছন্দ নির্ধারণ করতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। আয়-উপার্জন, ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে আল্লাহর ভয় থাকতে হবে। লেনদেন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহর হক বা ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ে রুকনদের ক্ষেত্রে আরও উন্নত চরিত্র গঠন করার আহবান জানান।
অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দ্বীন কায়েমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। দ্বীনকে একমাত্র জীবনোদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহবান জানান।
রুকনিয়াতের মর্যাদা ও গুরুত্ব উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, রুকনগণ সংগঠনের নেতৃত্ব বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিস্ক্রিয়তা, নৈতিক স্খলন যেন আমাদের পেয়ে না বসে সেজন্য রাতে আল্লাহর কাছে ধরনা দিতে হবে। মানুষের কাছে জবাবদিহির চেয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির প্রতি ভয় রেখে জীবনকে পরিশুদ্ধ করার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, ইলম অর্জনে শিক্ষাশিবির গুরুত্ব অনেক। এ শিক্ষাশিবির রুকনদের জ্ঞান ও চিন্তার জগতে বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হবে। আমাদের ইলম চর্চা ও আমলী জিন্দেগী সুন্দর হলে সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। আশা করি উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের আলোচনা নিজের জীবনে ধারণ করতে পারলেই আল্লাহ ও রাসুলের প্রিয় মানুষ হতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।









