
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামের হালদা নদীর দুই তীরের উদ্ভিদবৈচিত্র্য, পরিবেশগত অবস্থা ও দূষণের চিত্র নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় নদীর দুই পাশে মোট ১ হাজার ২৯টি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীটির বিভিন্ন ধরনের দূষণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, হালদা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এসব উদ্ভিদের মধ্যে কিছু প্রজাতি ইতোমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক বন ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে গবেষণায়।
গবেষণায় নদীর পানি, বায়ু, মাটি, শব্দ, তাপীয়, ধুলা, ভারী ধাতু ও প্লাস্টিকসহ মোট ১০ ধরনের দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পকারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নদীটির পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদীর তীরবর্তী উদ্ভিদ সংরক্ষণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইকো -এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণায় হালদা নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদা নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায়সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।








