চাঁদের পথে মানবযাত্রার ইতিহাস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রায় পাঁচ দশক পর চাঁদের কাছে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা। ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের মহাকাশযান ওরিয়ন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে) সফর শুরু করে ওই মহাকাশযান।

এই অভিযান পৃথিবী থেকে আরো বেশি দূরে যাওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। চারজন নভোচারীকে নিয়ে শুরু হওয়া এই মিশন মহাকাশ অনুসন্ধানের একটা নতুন অধ্যায় খুলে দিতে চলেছে।

এই ঐতিহাসিক মিশনে যে মহাকাশচারীরা সামিল হয়েছেন তারা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশনের বিশেষ কর্মী ক্রিস্টিনা কচ এবং বিশেষ কর্মী জেরেমি হ্যানসেন।

উড়ানের শুরুর দিকে যোগাযোগে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আসলে গ্রাউন্ডে থাকা ক্রু-রা মহাকাশযানের সওয়ার ক্রু-দের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন না। পরে সমস্যা মিটে যায়।

সাংবাদিক সম্মেলনে জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, ক্রু-রা “নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং এক্সাইটেড।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত, প্রায় ৬৫০ জন মানুষ মহাকাশে গিয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র ২৪ জন লুনার সার্ফেস বা চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি পৌঁছেছেন।

এই ২৪ জনের মধ্যে ১২ জন চাঁদে অবতরণ করেছেন।

বাকিদের বেশিরভাগই পৃথিবীর নিকটবর্তী লোয়ার আর্থ অরবিট বা নিম্ন ভূ-কক্ষপথে ভ্রমণ করেছেন। এটি হলো পৃথিবীর চারপাশের সেই অঞ্চল, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ থেকে দুই হাজার কিলোমিটার উপরে অবস্থিত।

১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যাপোলো-১৭ মহাকাশযান চাঁদ থেকে ফিরে আসার পর থেকে কোনো মানুষ নিম্ন ভূ-কক্ষপথের বাইরে যায়নি। গত পাঁচ দশকের মধ্যে আর্টেমিস-২ প্রথমবার মানুষকে সেই সীমানার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
চাঁদে প্রথম মানুষ অবতরণ করে ১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে

নাসার নতুন এবং আরো শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম চারজন মহাকাশচারীকে বহন করছে। স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) হলো নাসার ব্যবহৃত সুপার হেভি-লিফট এক্সপেন্ডেবল লঞ্চ ভেহিকেল বা স্পেস শাটল-ভিত্তিক উৎক্ষেপণ যান।

এর প্রথম পর্যায়ে চারটে ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত একটা কেন্দ্রীয় কোর স্টেজ এবং এর দুই পাশে দুটো সলিড রকেট বুস্টার রয়েছে।

কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে ওরিয়ন উৎক্ষেপণের পরেই এর জোড়া সলিড রকেট বুস্টারগুলো প্রথমে জ্বলে ওঠে যা এই রকেটকে উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে উপরে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় থ্রাস্টের বেশিটাই সরবরাহ করে।

তাদের সম্মিলিত শক্তি এবং এর সঙ্গে আগে থেকেই পূর্ণ শক্তিতে থাকা চারটে আরএস-২৫ ইঞ্জিন উৎক্ষেপণের সময় ফোর্স উৎপন্ন করে।

মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পরই গোটা কন্ট্রোল রুম জুড়ে উল্লাস দেখা যায়।

এরপর নিয়ম মেনে দুটো সলিড রকেট বুস্টার নিরাপদে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই ওরিয়নের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেমও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে মহাকাশযান প্রথমবারের মতো মহাকাশের শূন্যতার সংস্পর্শে আসে।

এই অভিযানের আরো একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এর মহাকাশচারীরা। এর মধ্যে চাঁদে ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী, চাঁদের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রথম নারী মহাকাশচারী এবং ডিপ স্পেসে ভ্রমণকারী প্রথম কানাডীয় মহাকাশচারী রয়েছেন।

ডিপ স্পেস হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের বিশাল অঞ্চল যার বেশিরভাগই এক্সপ্লোর করা হয়নি।

মন্তব্য করুন