
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চলমান দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতন, মিরপুরের শিশু রামিসা ও চট্টগ্রামের বাকলিয়ার শিশু ফারিয়ার উপর নির্মম নির্যাতন এবং প্রতিবাদকারী জনতা ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে “জনতার ঐক্য”।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জনতার ঐক্যের প্রধান উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “আজ আমরা শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিয়ে দাঁড়িয়েছি। কারণ এই দেশে আজ শিশু ও নারী কেউই নিরাপদ নয়। রামিসা ও ফারিয়ার মতো নিষ্পাপ শিশুদের উপর বর্বর নির্যাতন পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাচ্ছি না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সালাউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিবেক কবে নাড়া দেবে? দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের দুই সাংবাদিকের উপর হামলা এবং জনতার ঐক্যের সহ-সমন্বয়কারী হাশমিরা হায়দার চৌধুরী ও আজকের পত্রিকার কাইয়ুমকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা প্রমাণ করে—প্রতিবাদী কণ্ঠকেও দমন করার চেষ্টা চলছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন আছে, কিন্তু কার্যকর বিচার না থাকায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। জনগণ আজ প্রশ্ন করছে—কেন বিচার বিলম্বিত হয়? কেন অপরাধীরা আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়?”
তিনি আরও বলেন, জনতার ঐক্যের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হচ্ছে, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
প্রতিবাদকারী জনগণ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার বিচার করতে হবে, অপরাধীদের আশ্রয়দাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, ভুক্তভোগী শিশু ও পরিবারগুলোর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তিনি বলেন, “বাংলার মাটিতে ধর্ষক ও তাদের রক্ষাকারীদের কোনো স্থান নেই। আমরা আর ধামাচাপা নয়, দৃশ্যমান বিচার চাই।” সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জনতার ঐক্যের সহ-সমন্বয়কারী আশরাফ উদ্দিন নয়ন। তিনি বলেন, “আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে পড়েছে। রামিসার বাবার কথাই তার প্রমাণ—‘বিচার হবে না, কিছুদিন পর সব চাপা পড়ে যাবে।’ ব্রিটিশ আমলের ধারকৃত আইন ও সংবিধান আজও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। বিশ্বের বহু দেশে জনগণের দাবিতে আইন পরিবর্তন হয়েছে, কোথাও শরিয়া আদালতও চালু আছে। আমরাও চাই, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন, আইন ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার, শিশু ও নারীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর বিচারব্যবস্থা, আমরা আর ধামাচাপা চাই না। রামিসার মতো আর কোনো শিশু যেন নির্মমতার শিকার না হয়।”









