চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত আইনজীবীদের ভোট বর্জন

মোঃ ছরওয়ার কামাল: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি’র নির্বাচনে পক্ষপাদুষ্ট নির্বাচন অভিযোগ তোলে জামায়ত-এনসিপি সমর্থিত পরিষদের ১১দলীয় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের আইনজীবীরা ভোট বর্জন ঘোষণা দেয়।

বুধবার (২০মে) চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি’র অডিটোরিয়ামে ভোট বর্জন ঘোষণা দেন।

পক্ষপাতদুষ্ঠ নির্বাচন কমিশন বাতিল করে পুর্ননির্বাচনের জন্য-এ চট্টগ্রাম জেলা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে আদালত মামলা দায়ের করে।

নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা বার কাউন্সিল চেয়ারম্যানসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং তলবি সভা আহ্বান করেন। তবে ১৯ মে তলবি সভায় নির্বাচন বাতিলের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

এর আগে নির্বাচন বাতিল চেয়ে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে করা মামলার শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য আছে।

বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রাম জেলা ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রাজজ আদালতের বিচারক প্রায় দুই ঘন্টা সুনানি শেষে নির্বাচন মামলা খারিজ করেন দেন।

এর আগে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন-২০২৬-এ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম’।

জানা যায়, এমন পরিস্থিতিতে সমিতির ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। তবে বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ হবে।

গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকল না।

ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায়
তফসিল ঘোষণার জন্য সমিতির ১৬৬জন সদস্যের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তলবি সভা ঘোষণা করা হয়।

এতে বল প্রয়োগ,সংখ্যা নিয়ে নিয়ে ভয় পরিবেশ তৈরি করে।
এছাড়া মামলা শুনানি চলাকালে সরকারি দলের আইনজীবীরা আদালত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।অবৈধ নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পরেও বিজ্ঞ আদালত আমাদের উপর আমাদের অভিযোগ আমলে নেয়নি।

আমরা আদালত নির্বাচন পুনরায় গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে আদেশ দেবেন।”

আদালতও রায় আমাদের হতাশ করেছে।

এছাড়া নয়টি পদে কোনো প্রার্থীই নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় এই নির্বাচন কমিশন অবৈধ। আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন ও তফসিল চাইলেও। আদালত আমাদের আবেদনের পক্ষে রায় দেবেন দেয়নি।”

 

তবে, সূচি অনুযায়ী, ২১ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে মোট ২৪ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বাকি ৯ পদে একজন করে প্রার্থী আছেন; তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচনে ভোটার আছেন প্রায় ৫ হাজার।
আদালতে রায় ঘোষণার সাথে সাথে ১১ দলীয় আইনজীবী পরিষদ সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

জামায়ত সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত রায়ে শেষে আদালত মিছিল করে। এর পরপরই চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি’র নির্বাচনে থেকে সহ-সভাপতিও ১১ সদস্যে পদত্যাগ করেন।

পদত্যাপত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অপর দুই কমিশনার এডভোকেট মোঃ ইব্রাহিম, এডভোকেট মোঃ সেলিম উদ্দিন শাহিন এর পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ এনে সাইফুল ইসলাম, এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, মোঃ কামাল হোসাইন, মোঃ নুমান আসকারী, নুসরাত জাহান, নেজাম উদ্দীন, আনিসুল ইসলাম, এ এম আরিফুস সালাম, মোঃ মুছা সলিমুল্লাহ, হিজবুল হক, নওশাহ আলী, ইরফানুল হক সহ ১২ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনারে কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি’র কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস, সহ সাধরণ সম্পাদক এড. মোঃ ফজলুল বারী,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এড আবদুল জব্বারসহ ৪ সদস্য মোহাম্মদ মুরশেদ, রুবাইয়াতুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহেদ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকে সরে দাড়িয়ে সভাপতি নিকট পদত্যাগের জমা দেন।

মন্তব্য করুন