
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় একটি পোশাক কারখানার সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর।
আজ এক যৌথ বিবৃতিতে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দিনের আলোয় জনসম্মুখে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার দৃশ্য চট্টগ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করেছে। শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে কাজ করেন, সেখানে অস্ত্রধারীদের প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তারা বলেন, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকা চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এ অঞ্চলে যদি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়, তাহলে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। শিল্প-কারখানাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা শুধু শিল্পের পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল অস্ত্রের মহড়া, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে রাখা। গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। যারা অস্ত্রের শক্তিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নেতৃদ্বয় অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রধারী ও তার সহযোগীদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বিসিক শিল্প এলাকাসহ চট্টগ্রামের সকল শিল্পাঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তারা বলেন, চট্টগ্রাম শিল্প, বন্দর ও শ্রমিকের নগরী। এ নগরীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার যেকোনো অপচেষ্টা শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।









