
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই বিপ্লব স্মরণে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এমদাদউল্লাহ সোহাইল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ আনাস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদ, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আফসার উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ক্বারী মাওলানা মুবিনুল হক, নগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ ইকবাল চৌধুরী, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তফা কামাল, নগর এলডিপির সেক্রেটারি আবু সাঈদ, এবি পার্টির নগর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান চৌধুরী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা মাওলানা নুর মুহাম্মদ কিবরিয়া।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায়। এ আন্দোলনের চেতনা শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়; বরং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৪ জুলাই চট্টগ্রামসহ সারাদেশে একযোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং আহতদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে হলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিকে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নস্যাৎ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
নগর জামায়াত আমীর বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। জনগণ একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। জনগণের ন্যায্য দাবি ও জুলাইয়ের চেতনাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। শহীদ হাদীর ভাষায় বলতে চাই, ‘জান দেব, জুলাই দেব না।’ জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি সফল করতে হবে।









