নিউজ ডেস্ক

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে: উপ-পরিচালক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহার বলেছেন, আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এবং ২৯ মে তৃতীয় ধাপে বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে গত ৮ মে প্রথম ধাপে সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও সন্ধীপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আগামী ২১ ও ২৯ মে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রামের উল্লেখিত ৭টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জগণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ উপলক্ষে আজ ১৩ মে সোমবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখল বা অন্য কোন অজুহাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোন ধরণের গুজব ছড়ালে ছাড় নেই। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবর্দা আপনাদের পাশে থাকবে। নির্বাচনে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
সভায় পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কবির আহমদ বলেন, প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যে কোন ধরণের সহিংসতা রোধে জেলা পুলিশ প্রস্তুুত রয়েছে। নির্বাচনে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখলে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে গত ৮ মে প্রথম ধাপে এখানকার ৩টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল, আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদের নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান বলেন, আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। পিভিসি ব্যানার ও পোস্টার করা যাবে না। কেউ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইলে আমরা এক চুল পরিমানও পিছ পা হবো না। আশঙ্কার জায়গা থাকবে না। এ নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না। ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠু করার জন্য যা যা দরকার সবই করা হবে। সরকারের ভাবমুর্তি রক্ষায় আমাদের একটাই চাওয়া-নির্বাচনকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করা।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ইউনুছ আলী বলেন, নির্বাচনে কেউ জয়ী হবে, কেউ পরাজিত হবে, এটা বাস্তবতা ও মেনে নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সবাই আপনাদের পাশে আছে। নির্বাচনী এলাকায় অনুমতি ব্যতীত কোন যানবাহন চলবে না। ভোটারদেরকে কেন্দ্রে আনা-নেয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করাও অবৈধ। আগামী ২১ মে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ১৭ মে রাত ১২টায় বন্ধ হয়ে যাবে। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘন্টা আগ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা করা যাবে।
সভায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান বা পরিপত্র মেনে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট কেন্দ্রে বা বাইরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। কোন অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করবো না।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে। একজন প্রার্থীর পোষ্টারের উপর অন্য প্রার্থীর পোষ্টার লাগানো যাবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলতে কিছু নেই। প্রার্থীরা যদি মনে করেন আছে, তাহলে তালিকা দিলে যাচাই-বাছাই করে দেখবো, আশঙ্কার জায়গা থাকবে না। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আইনের স্বপক্ষে থেকে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনের দিন সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে ও বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এ.কে.এম গোলাম মোর্শেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী, পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কবির আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, আনসার ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট সাইফুল্লাহ হাবীব, র‌্যাবের এএসপি মোজাফফর হোসেন, এনএসআই’র সহকারী পরিচালক জহিরুল হক, বিজিবি’র সহকারী পরিচালক উপেন্দ্র নাথ হালদার প্রমূখ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জগণ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন