রমজানেও ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম নির্যাতন, সম্মিলিত পেশাজীবি নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ভারতে পবিত্র রমজান মাসেও উগ্র হিন্দুদের দ্বারা মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্মিলিত পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে রমজান হলো পবিত্র মাস। এ মাসে অধিক ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন বিশ্বের মুসলমানেরা। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, ভারতের মুসলমানরা পবিত্র রমজানেও নিরাপদ থাকতে পারছেন না। নির্বিঘ্নে ইবাদত পালন করতে পারছেন না। তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হচ্ছে।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সম্প্রতি লাউড স্পিকারে আজান দেওয়ায় ইমামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হোলির জন্য মুসলিমদের নামাজ আদায় না করতে দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি, ভারতের একটি মসজিদের সামনে হঠাৎ করেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী একটি দল নামাজ পড়ে বের হওয়া মুসল্লিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের মারধর করে আর উচ্চ স্বরে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে থাকে, তাদের হাতে ছিল মদের বোতল। এছাড়াও রাস্তা-ঘাটে রোজাদার মুসলিমদের পথ আটকে হোলির রঙ মাখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে পিটিয়ে জখম করা হচ্ছে। বাড়ি-ঘরের মা-বোনেরাও নিরাপদে নেই। তাদের ওপরও হামলা হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, ইসলাম বিদ্বেষী মোদি সরকারের সময় ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা যেন এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ বলে প্রায় প্রতিদিনই ভারতের কোথাও না কোথাও মুসলিম নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। মোদির ভারতে যে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। তাছাড়া মুসলমানদের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ দখল করে রাম মন্দির স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনা। বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই ঘটনায় নিহত হয়েছিল বেশ কিছু ভারতীয় মুসলমান। ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় ভারতে দিন-দুপুরে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ নরেন্দ্র মোদির দেশের হলুদ মিডিয়াগুলো বাংলাদেশ নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা এতটাই নিরাপদ যে, মুসলমানরা পাহারা দেয় তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়। অথচ মোদির দেশে বাঁধা দেওয়া হয় নামাজ পড়তেও।

বিবৃতিতে ন্যাক্কারজনক এসব হামলা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, সিএমইউজের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, ড্যাব চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নসরুল কদির, ড্যাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সেলিম জানে আলম, রোটারিয়ান জসিম উদ্দিন ও সাংবাদিক নেতা কামরুল হুদা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন