
সমাজসেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনাই তার ব্রত। মুহাম্মদ আবু আবিদ, বর্তমাব সময়ের একজন জনপ্রিয় সমাজকর্মী, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং তরুণদের অনুপ্রেরণা।
শৈশব থেকেই মানবসেবায় আগ্রহী আবিদের জন্ম হয় চট্টগ্রাম হালিশহরে। ছোটবেলা থেকেই সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন আবিদ।
কিশোর বয়সে দেখেছেন দরিদ্র শিশুদের কষ্ট, অভাবের তাড়নায় শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া বা বৃদ্ধ মা-বাবাদের প্রতি অবহেলা। তখন থেকেই মনে স্বপ্ন বুনেছেন, একদিন কিছু করবেন এই মানুষগুলোর জন্য।
সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে মুহাম্মদ আবু আবিদ ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন “দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন”। যার মাধ্যমে তিনি তরুণদের একত্রিত করে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই সংগঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গাটা হল- আবিদ এর ইউনিক আইডিয়া ও তা মেধা-বুদ্ধি দিয়ে বাস্তবায়ন করা।
তিনি প্রমান করেছেন, কেবল সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও হিসেবে স্বচ্ছতা থাকলেই সামাজিক কাজগুলোতে অনুদানকারীর অভাব হয় না। টাকা কখনও সামাজিক কাজের মূলধন হয় না, নিজের ও অপরের মধ্যে মনুষ্যত্ব জাগতে পারলেই যেকোন সামাজিক কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে প্রমান করেছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ।
যেমন- অসহায় ও এতিম শিশুদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমন, বন্যা পরবর্তী চিকিৎসা সেবা, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ধ্বংস বাড়ি পুনরায় মেরামত করে দেয়া, বৃদ্ধাশ্রমে ঈদ পালন, বৃক্ষের পরিচর্যায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা, ভাসমান জেলেদের সাথে কুরবানির রান্না মাংস খাওয়া, হিজড়া নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, বিনামূল্যে দূর্বার তারুণ্য ব্লাড সোসাইটি এর নামে মানুষকে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়া, এতিমখানায় ভ্যালেন্টাইন ডে পালন, ফ্রী ঈদ শপিং, শীতের রাতে গরম খাবার, ঈদের দিনে স্টেশনে বাচ্চাদের সেমাই খাওয়ানো ও বকশিস দেয়াসহ আরও অনেক ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট করেছে ফাউন্ডেশনটি।
দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনটির মূল লক্ষ্য হলো—দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহায়তা করা, তরুণদের সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এর উদ্যোগে ইতিমধ্যে বহু দুস্থ মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় পেয়েছে।
করোনাকালীন সময়ে মুহাম্মদ আবু আবিদ এর নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
এছাড়া, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
সমাজের অনিয়ম-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সাংবাদিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন মুহাম্মদ আবু আবিদ।
দীর্ঘ ৮ বছর সাংবাদিকতার জীবনে বহু গণমাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, টেলিভিশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্র্যাব)-এর মুখপাত্র ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটির মুখপাত্র ও সাংগঠনিক সম্পাদক।
সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করেছেন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
মুহাম্মদ আবু আবিদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো “আনন্দ গ্রাম”—একটি স্থায়ী আশ্রয়স্থল, যেখানে এতিম, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য থাকবে নিরাপদ ঠিকানা।
এই প্রকল্পে থাকবে এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা। তার বিশ্বাস, বৃদ্ধাশ্রমের মা-বাবারা এখানে এতিম শিশুদের মাঝে সন্তানসুলভ ভালোবাসা খুঁজে পাবেন, আর এতিমরাও মা-বাবার স্নেহ পাবে।
মুহাম্মদ আবু আবিদ শুধু একজন সমাজকর্মী বা সাংবাদিক নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি চান, তার উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ুক এবং সমাজের প্রতিটি অসহায় মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার পায়। তরুণদের নিয়ে কাজ করে সমাজ পরিবর্তন আনাই তার মূল লক্ষ্য।
তার মতে, “আমরা সবাই যদি একটু সহানুভূতিশীল হই, তাহলে কেউ অনাহারে থাকবে না, কেউ অবহেলিত হবে না। আমি চাই, সবাই একসঙ্গে এগিয়ে আসুক এবং সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফুটুক।”
তার এই সংগ্রামী ও মানবিক পথচলা একদিন সমাজে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।









