
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চে ভাঙচুর চালানোর পর চট্টগ্রামের ডিসি হিলে বর্ষবরণের আয়োজন বাতিল ঘোষণা করেছে আয়োজক সংগঠন ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ’। রোববার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে আয়োজকদের সামনে ডিসি হিলের মঞ্চে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় হামলা থেকে বাঁচতে আয়োজক সংগঠনের উপস্থিত সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি দল হঠাৎ করে সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে স্লোগান দেয় এবং আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার-সমর্থনের অভিযোগ তোলে। হামলাকারীরা অনুষ্ঠান মঞ্চ ভাঙচুর করে এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটু বলেন, “প্রায় ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের স্বৈরাচারের দোসর বলে গালি দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আগামীকাল অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। তাই আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পিআর) মাহমুদা বেগম বলেন,“আমরা শুনেছি, নববর্ষের প্রস্তুতির সময় ঢিল ছোঁড়া হয়েছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। সংগঠনটির নগর সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন,
“নববর্ষের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, হেলমেথ লীগ ও আনসার লীগের কর্মীরা একত্রিত হচ্ছিল। সাধারণ জনগণ তাদের প্রতিহত করেছে। তবে, আমাদের সংগঠন জাসাস এই হামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৪০-৫০ জনের একটি দল ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে ডিসি হিলের ভেতর ঢুকে পড়ে। তারা মঞ্চে উঠে মঞ্চসজ্জায় ব্যবহৃত কাঠের স্থাপনা ভেঙে ফেলে। মঞ্চসহ আশপাশে লাগানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দেয়।
এ সময় মিছিলকারীরা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ডিসি হিলে বর্ষবরণের কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ভাঙচুরকারীরা আগেই সেখান থেকে সরে যান। এ অবস্থায় আয়োজক সংগঠন সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সংগঠকরা বৈঠকে বসে বর্ষবরণের কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
জানতে চাইলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটো বলেন, ‘আমরা পহেলা বৈশাখের আয়োজনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ৪০-৫০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে এসে ভাঙচুর শুরু করে। তারা এতটাই আক্রমণাত্মক ছিল যে, আমরা প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হলাম। মঞ্চের সবকিছু তারা ভেঙে ফেলেছে, ব্যানার সব ছিঁড়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় আমাদের নতুন করে মঞ্চসজ্জা করার আর সময় নেই। আমরা এত নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রোগ্রাম করতে রাজি নই। সেজন্য সবার সম্মতিক্রমে প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জকে বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চে ভাঙচুর করেছে। সেখানে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করছিলেন। তারা ভাঙচুরে বাধা দেন। পরে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করেছি।’
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘সম্মিলিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন মঞ্চ, চট্টগ্রাম’ নামে একটি সংগঠন মানববন্ধন করে। এতে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রামের ডিসি হিল ও সিআরবিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে শেখ হাসিনার দোসরদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে।









