
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ২০/ ৩০ জন শিক্ষার্থী। করোনার কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় পরীক্ষা দুই মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, যতদ্রুত সম্ভব পরীক্ষা শেষ করা যায়। আজ রোববার (২২ জুন) বেলা ২ টায় শিক্ষাবোর্ডের সামনে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে অবস্থান নেন ২০/ ৩০ জন ছাত্র।
তারা বলছেন, করোনার কারণে জীবন হুমকির মুখে পরতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পরীক্ষা পেছানো দরকার। এসময় তারা ‘সুরক্ষা না পরীক্ষা, সুরক্ষা সুরক্ষা’ স্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ জানান, পরীক্ষার পেছানোর মতো এখতিয়ার শিক্ষাবোর্ডের নেই। তাদের দাবি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এবিষয়ে মন্ত্রণালয় সীদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের কাছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত পরীক্ষা নিয়ে নেওয়ার।
তিনি বলেন, আমার বোর্ডের এক লাখ ৩০ হাজারের মত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। আর পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানাতে এসেছে হাতেগোনা ২২/২৩ জন। অন্তত ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী চায় যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত পরীক্ষা হয়ে গেলেই ভালো হবে। কারণ পরে হলে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে। পরীক্ষা না হলে হয়তো আগের মতো অটোপাস দিতে হবে। অটোপাস হলে আমাদের ক্ষতি হবে। অটোপাস হলে বিদেশে কোনো স্কলারশিপ দেয় না। আমি চাই দ্রুত পরীক্ষা হয়ে যাক।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ জুন থেকে সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। দেশে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলেও আগের সূচি ধরে ২৬ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেছেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো নেবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তারা পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পড়া, হাত ধোয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো তদারকি করবেন। তবে আমরা পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছি।
এখন শুধু পরীক্ষার অপেক্ষা। আমরা যথাসময়ে পরীক্ষার আয়োজন করব। এদিকে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাগুলোয় আমরা নজর রাখছি। এখনও এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই জানিয়ে অধ্যাপক এহসানুল কবির বলেন, “সরকারের কাছ থেকে এখনো পরীক্ষা পেছানোর কোনো নির্দেশনা নেই। সেই ধরনের কোনো নির্দেশনা পেলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
সম্প্রতি পাশের দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব ভ্যারিয়েন্টের সংক্রামণ বৃদ্ধি পাওয়ার এবং অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।
গত ৪ জুন জারি করা ওই নির্দেশনায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যাক্তির থেকে ৩ ফুট দূরে অবস্থান, অপরিষ্কার হাতে নাক-চোখ-মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা এবং হাঁচি কাশির সময় বাহু, টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শুক্রবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে চলতি বছর কোভিডে তিনজনের মৃত্যু হল। এর আগে ৫ জুন একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি মাসে ৯৭ জন রোগী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছেন সামন্য পরীক্ষার্থী।
পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম চীনে ছড়ানো করোনাভাইরাস দুই মাস পর ছড়িয়েছিল বাংলাদেশেও। এরপর নানা উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে মাস্ক পরাসহ ধাপে ধাপে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয় টানা তিন বছর। সেসময় লকডাউনে জনশূন্য হয় নগর, শহর। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের কার্যক্রম চলে অনলাইনে। চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ে মানুষ।
সীমান্ত সংযোগ ও বিমানবন্দরে চলে কঠোর কড়াকড়ি, স্থগিত রাখা হয় আকাশ যোগাযোগ। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ডলারের দাম বাড়ে, বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দামও। ওই পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এসএসসি ও জেএসসির নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে।
পরের কয়েক বছর এসএসসি ও এইচএসসিতে সিলেবাস ও সময় কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলেও সূচিতে তালগোল যায়। সেই জট এখনো পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সাল থেকে দেশে কোভিড সংক্রমণ কমতে শুরু করে। পরের বছর থেকে রোগী শনাক্তের হার নেমে আসে প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে মাস্ক পরার যে বাধ্যবাধকতা, তাও সে সময় তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দেশে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রে মেনে চলতে হবে।”
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৬ জুন। যা চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ আগস্ট শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ আগস্ট।
২০২৩ সালের সংক্ষিপ্ত বা পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হবে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে ও পূর্ণ সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
সময়সূচি থেকে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৯টায় অলিখিত উত্তরপত্র এবং বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। আর সকাল সাড়ে ১০টায় বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। (২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় ১০টা ২৫ মিনিট)। আর বেলা ২টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেলা দেড়টায় অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ। বেলা ২টা বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। বেলা আড়াইটায় বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।









