মদিনা সনদের আলোকে বিশ্বের চলমান পরিস্থিতি

মোহাম্মদ হোসেন: আল্লাহতা’আলার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি হলো বিশ্ব শান্তি ঐক্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অগ্রদুত মুহাম্মদ (সা:)। তাঁকে বিশ^বাসীর জন্য সম্প্রদায়িক সমপ্রীতি সুন্দরতম মডেল বিশ্ব শান্তি ও ঐক্যের প্রতীক এবং মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
বর্তমান বিশ্বে চলমান পরিস্থিতিতে শান্তি ঐক্য, মানবতার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবসান ঘটিলেও যতটুকু অবশিষ্ট আছে তা হল হযরত মুহাম্মদ (স:) এর অবদান। পৃথিবীতে তিনিই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ মহামানব।

কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের অনুপম আদর্শ। তাঁর অনুসরনের মধ্যেই রয়েছে মনুষ্যত্বের পূর্ণ মর্যাদা ও সফলতা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান বিশ্বে মানবতা ও ইসলাম বিরোধী যে সমস্ত অসৎ কর্মকান্ড সংগঠিত হচ্ছে তা সর্ব শেষ নবী (সা:) এর প্রদত্ত মদিনা সনদের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
নবী করিম (সা:) মদিনায় তার প্রতিষ্ঠিত সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে নজীর রেখেছেন তা ইতিহাসে ১ম লিখিত সংবিধান হিসাবে স্বীকৃত। মদিনায় এমন ৩ প্রকার জাতির সাথে সম্প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, যারা ছিল পরস্পর ভিন্ন অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যেমন:
ক) মুসলিম জাতি তারা মক্কার মুহাজির ও মদিনার আনসার এ দুই শ্রেণীর সমনি¦ত রূপ ছিল।
খ) মদিনার পৌত্তলিক অধিবাসী গোষ্ঠী তারা তখনো ঈমান আনেনি।
গ) ইহুদী সম্প্রদায়, মদিনার বিভিন্ন উপকন্ঠে বসবাসরত কূচক্রী ইহুদী সম্প্রদায় এদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ৩টি গোত্র হলো যুদ্ধ প্রিয় বনু কায়নকা, বনু নজীর ও বনু কুরাইযাহ।
নবী করিম (সা:) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে সকল ধর্ম ও গোত্রের মধ্যে সম্প্রতি স্থাপন করে মদিনাকে শান্তির শহরে পরিণত করেন।
মদিনা সনদ ছিল মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দিক নির্দেশনা।
মদিনা সনদে নবী (সা:) জাতি ধর্ম মত নির্বিশেষে সবাইকে মনুষ্যত্যের মূল্যয়ণে একত্রে বসবাস করে মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উপরোক্ত মদিনা সনদে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী কূচক্রী ইহুদী যুদ্ধপ্রিয় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গোটা ফিলিস্তিনিকে ধ্বংস করার মধ্যে দিয়ে ও তার সহযোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানে পারমাণবিক তৈরি করার চেষ্টাকে ধ্বংস করার নাম দিয়ে যৌথভাবে ইরানে বর্বর হামলা চালায় এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনিকে নিঃস্বর্তে আত্মসমর্পন করার জন্য ডোনাল্ট ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তথা মুসলমান, আল্লাহর কাছে ছাড়া দুনিয়ার কোনো বাতিল শক্তির কাছে আত্মসমর্পন করে না এবং মাথাও নত করে না ইহা ডোনাল্ড ট্রাম্প জানে না।

সুতরাং আয়াতুল্লা আলী খামেনি একা ঈমানি শক্তি নিয়ে পাল্টা ইযরায়েলে এবং মার্কিন ঘাটিতে হামলা চালায়। ঈমানি শক্তি তথা তাওহীদের আমানত মুসলমানদের মনে সংরক্ষিত। যার ফলে, তারা আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না, করে সংগ্রামের মধ্যে নিজের জীবন দিয়ে ইসলামকে জীবিত রাখে।

সুতরাং ইসলাম সর্ব অবস্থায় জীবিত বিধায় সংগ্রামের মধ্যে নিজের জীবিন দিয়ে ইসলামকে জীবিত রাখার শিক্ষা মানবজাতিকে কারবালায় দিয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইযরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে ইসলাম তথা গোটা মানবতাকে ধ্বংস করার কর্মকান্ডে লিপ্ত। তা দেখে আজ মুসলিম বিশ্ব তথা বিশ্ব বিবেক নিরব এই নিরবতার জন্য যিনি মদিনার সনদ প্রণয়ন করে মানব জাতির জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর কাছে কিয়ামতের দিন মুখ দেখানো যাবে না।

যদি মুসলিম বিশ্ব তথা বিশ^বিবেক ইরানের পাশে এসে না দাঁড়ায়, তাহলে ইসলাম তথা গোটা মানবতা ধ্বংসের কবলে।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে মাফ করুন, ক্ষমা করুন, দয়া করুন, যেহেতু আপনি আমাদের রব/ অভিভাবক, আমরা কাফেরদের উপর জয়ী হওয়ার জন্য সাহায্য করুন।
লেখক: মৌলভী বাড়ী, সাবানঘাটা, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করুন