
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বন্দর নগরী চট্টগ্রাম চকবাজার ফুলতলা মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী অমল মালাকারের দোকানে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর করেছে কিশোর গ্যাং এর গডফাদার জাবেদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তাদের হামলায় অমল সরকারের মাথা ফেটে রক্তে লাল হয়ে যায় সারা শরীর। সন্ত্রাসী জাবেদ উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত মানুষের সামনেই হোটেলের ক্যাশ থেকে নগদ প্রায় ৭ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুর দেড়টায়। এর আগেও দুই দফায় হামলা ভাঙচুর করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। বর্তমানে আতংকে রয়েছে তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম চকবাজার ফুলতলার মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী অমল মালাকার। স্থানীয়ভাবে বিগত ২৫ বছর যাবত তিনি চকবাজার ফুলতলার মোড়ে চা দোকানটি দিয়ে সংসারের হাল ধরে কোন রকমে খেয়ে পরে বেঁচে আছেন। প্রতিদিনের ন্যায় তার চা নাস্তার হোটেলে সকাল থেকে বসে ব্যাবসা পরিচালনা করছিলেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় ফুলতলা এলাকার কিশোর গ্যাং এর সদস্য ও পরিচালক বর্তমান আতঙ্ক মাদক সহ একাধিক মামলার আসামি ঘাষিয়া পাড়া আলী আহম্মদের পুত্র জাবেদ (৪২) বিগত কয়েকমাস আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে একের পর এক চাঁদাবাজি, চুরি ছিনতাই সহ মাদক ক্রয় বিক্রয়ের সাথে পুনরায় জড়িয়ে পড়ে। তার এই সব ধারাবাহিক অপকর্মের টার্গেট পরে চকবাজার ফুলতলা মোড়ে অমল মালাকারের হোটেলের উপর। তথ্যানুসন্ধানে স্থানীয় ভাবে জানা গেছে, গত কয়েকমাস হতে প্রতিনিয়ত ফুটপাতে বসা ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গুলো হতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিল। কখনো বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে ঐ নেতার অনুসারী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তার অপকর্মের হাত এতটাই শক্তিশালী অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার একাধিক অপকর্মের বিষয়ে থানা কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং দুপুর দেড়টায় অমল মালাকারের ছোট হোটেলে স্বদল বলে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এত টাকা অমল বাবুর কাছে নেই এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হয় তার হোটেলের মধ্যেই তার উপরে উপর্যুপুরি আক্রমণ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অমল সরকারের মাথায় আঘাত লাগে। সন্ত্রাসী জাবেদ উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত মানুষের সামনেই হোটেলের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের কাছ প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় তার সাথে কিশোর সদস্য ফরিদ (১৮) পিতা- হোসেন, নাজমুল (২০) পিতা রফিক সহ অজ্ঞাত নামা একাধিক কিশোর গ্যাং এর সদস্য উপস্থিত ছিল পুরো ঘটনায়।
পরবর্তীতে অমল সরকারের পুত্র সহ অন্যদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দৈনিক ও মাসিক চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এই সব কিশোর অপরাধীরা। অমল সরকারকে স্থানীয়দের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে মাথায় সেলাই করা হয়। রাতে সন্ত্রাসী জাবেদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় বেপরোয়া জাবেদকে পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যরা প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন হতে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও কর্ণপাত করে না পুলিশ। ঘাষিয়ার পাড়া, ফুলতলার মোড়, চকবাজার কে. বি. আমান আলী রোডের এলাকাবাসী মনে করেন মামলা রুজুর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে গ্রেফতার এড়িয়ে পলায়ন করতে পারতো না ভয়ঙ্কর এই কিশোর গ্যাং নেতা। এসব বখাটেদের গ্রেফতারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় জনগণ।









