ডেপুটি জেলারকে ৭ লাখ টাকা! ছাত্রলীগ নেতার মুক্তি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নিবার্হী সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েমের জামিনে মুক্তি নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটেছে। জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলারকে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে জেল গেইটে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে মুক্তি পেয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার নওশাদ মিয়াকে সিঙ্গেল অর্ডারে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে কারা প্রশাসনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আজ শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

বদলির কথা স্বীকার করলেও অভিযুক্ত ডেপুটি জেলার নওশাদ মিয়া বলেন, আমাকে বদলি করা হয়েছে। কি কারণে করা হয়েছে জানি না। মন ভালো নেই। জামিন প্রসঙ্গে কোন কথা বলতে চাইছি না। অন্যদের সাথে কথা বলেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ বলেন, ছাত্রলীগ নেতার জামিন নিময় মতোই হয়েছে। সারাদিন তাকে কারা অফিসে এনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোন অর্থ লেনদেন করার কথা আমার জানা নেই।

অন্য কেউ নিয়েছে কিনা জানি না। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও সারাদিন বসিয়ে রাখা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জেলার বলেন, কর্তৃপক্ষ জেপুটি জেলারকে এ ঘটনার জেরে বদলি করছে জানি না। কোন বন্দিকে অযথা এনে গেইটে বসিয়ে রাখা হয় না। একেও অযথা সারাদিন বসিয়ে রাখা হয়নি।
কারাগারে দায়িত্বরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সদস্য আল আমিন বলেন, কারাগার থেকে নিময় মোতাবেক আমাদের এ তথ্য জানানো হয়।

আমাদের হাতে আসামি সায়েমকে আটকানোর মতো আর কোন মামলা না থাকায় জানানোর কিছু সময় পরই তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি। সারাদিন আমরা কারা কর্তৃপক্ষে বসিয়ে রাখতে বলিনি। কেন সারাদিন বসিয়ে রেখেছিল তার জবাব কারা কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে। অর্থ লেনদেন করেছে কিনা এটিও কারা কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।

চট্টগ্রাম কারাগার থেকে রাজনৈতিক মামলায় কোন আসামির জামিন হলে তা মহানগর পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ও জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চকে জানিয়ে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের থেকে ক্লিয়ারেন্স আসলেই ওই আসামিকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে পুলিশ কাকে ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছে, কাকে দিচ্ছেন না- তা বন্দিরা জানেন না, থাকেন অন্ধকারে। এ অন্ধকারে থাকার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারি বন্দিদের আরো মামলা আসতেছে, এক বছরেও ছাড়া পাবেন না। এসব না কথা বলে ভয় দেখান। তখন মুক্তির জন্য বন্দিরা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে কত টাকা দিতে হবে তা নিয়ে দেনদরবার শুরু করেন। যেসব রাজনৈতিক বন্দি আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান তাদের থেকে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে তারপর জেল গেইট থেকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ছাত্রলীগ নেতার এ একটি ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঢাকার কারা অধিপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর এ্যাকশনে যায় কারা অধিদপ্তর। তবে কারাগারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের ছাড় দিয়ে তিন ধাপ নিচের জুনিয়র অফিসারকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে বলে কারা কারারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারাগারে জামিন বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। জামিন পাওয়ার পর বন্দিরা এসে আমাদের কারাগারে সুপার, জেলার থেকে কারারক্ষীদের পদে পদে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ করেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পটিয়ায় অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১১ নভেম্বর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সে। সায়েব সাবেক ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

মন্তব্য করুন