
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে সন্ত্রাস ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ সময় নগরের ১৯ জন সহ মোট ৩৯ শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ১১২ অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার বলছেন, ভয় দেখানো নয়, বরং সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে আইন মেনে ‘কঠোর প্রতিরোধই’ এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
শনিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির কমিশনার হাসিব আজিজ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ভয় দেখাতে চাই না, বরং প্রতিরোধ করতে চাই। যেসব মানুষ অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে, তারা জানুক, পুলিশ তাদের আইনের মধ্যে দমন করবে। যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর গুলি চালানো হবে না। চট্টগ্রামের মানুষই আমার শক্তি। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শহরের ১৬টি থানায় ৯৪৮টি অস্ত্র লুট হয়। অভিযান চালিয়ে সিএমপি ইতিমধ্যেই ৭৯৩টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। বাকি ১৫৫টি অস্ত্র উদ্ধার প্রক্রিয়াধীন। গত ৯ মাসে ১১২ জন অস্ত্রধারীর কাছ থেকে ৩৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০টি বিদেশী পিস্তল, ২টি রিভলবার, ১১টি এলজি, ১টি বোর শটগান, পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। গুলির সংখ্যা ১৪৯ রাউন্ড, ১৯টি ম্যাগাজিন ও ৩৮ রাউন্ড কার্তুজ।
অভিযানকালে নগরের খুলশী থানা থেকে ১১ জন, কর্ণফুলি থেকে ১০ জন ও বাকলিয়া থানা থেকে ১ জনসহ মোট ২২ জন ডাকাত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন যানবাহন, লুট করা মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী ও আকবরশাহ থানায় কুকিচীন ন্যাশনাল ফন্টের ২০ জন গ্রেপ্তার হয়; অভিযানে ৪০ হাজারের বেশি কুকিচীনের পোশাক জব্দ করা হয়।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোট ১০টি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এসব মিছিল ও সহিংসতায় ১৬টি থানায় ৬৩টি মামলা হয়েছে, ১২১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মো. সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), আইয়ুব আলী, শাকিল, মো. ইমাম হোসেন, মাসুম প্রকাশ (বকলেস মাসুম) ও এবিএম মোস্তফা কামাল সহ ১৯ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র।
সিএমপি আরও জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রম্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার সন্দেহে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, গত নয় মাসে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮ পিস ইয়াবা, ৩২০ কেজি গাজা, ১৭১ বোতল ফেনসিডিল, ৪ হাজার ৪৬০ লিটার চোলাইমদ, ২২৮ বোতল বিদেশী মদ ও ১১৬ বোতল বিয়ার উদ্ধার করেছে। এসব মাদকের বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।









