
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেছেন, ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর নতুন একদল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের উত্থান ঘটেছে। আমরা সরকারের কাছে সুস্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি কঠোরহস্তে নব্য চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমন করার।
তিনি আজ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে থানা ও সেক্টর দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন, মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ, অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।
লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেন, নতুন বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের মানুষ নতুন করে একদল মানুষের হাতে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। তারা টেম্পু স্টান্ড, বাস স্ট্যান্ড, টার্মিনাল দখল নিয়ে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে চাঁদা দিতে বাধ্য করছে। গার্মেন্টস ও শিল্প কলকারখানায় একই কায়দায় মালিকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে। অজস্র শিক্ষার্থী ও শ্রমিক জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতা নব্য চাঁদাবাজদের কাছে বিলীন হতে পারে না। শ্রমিক জনতা শ্রম অঙ্গন থেকে সকল চাঁদাবাজদের রুখে দিবে।
তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, বিশেষভাবে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের হাতে একের পর এক খুন হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মোটাদাগে কোন অ্যাকশন নিতে পারেনি। আজকে সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে নিরাপদ বোধ করছে না। আমরা অবিলম্বে সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য। একই সাথে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এই দেশ আর কখনো কোনো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা মনে করি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে। সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে।









