
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এম. মনজুর আলম একজন জননেতা হলেও তার প্রকৃত পরিচয় একজন মানবিক সমাজসেবক হিসেবে অধিক উজ্জ্বল। ব্যবসা ও রাজনীতিতে সফলতা অর্জনের পর তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের কল্যাণে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ, ফাউন্ডেশন ও ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম সিটির সিটি গেইট বাগান বাড়ি এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেগম খালেদা জিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
পাশাপাশি আকবর শাহ থানা এলাকায় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তোলেন, যেখানে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বল্পমূল্যে কিংবা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।
উত্তর কাট্টলীতে অবস্থিত আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম হাসপাতাল পরিচালনায়ও তার ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই হাসপাতাল থেকে অসংখ্য মানুষ সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
শিক্ষাবিস্তারে এম. মনজুর আলমের অবদান সমানভাবে প্রশংসনীয়। তার প্রতিষ্ঠিত মোস্তফা-হাকিম কলেজ, কসমোপলিটান স্কুল এবং বেগম খালেদা জিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষিত প্রজন্মই পারে একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে। তাই শিক্ষা খাতে তার বিনিয়োগ কেবল প্রতিষ্ঠান গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ।
মানুেষের চিকিৎসা সেবায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তিনি খুব আন্তরিক ।
মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং হোছনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রায় ৯১টি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
এতিমখানা পরিচালনা, অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান, আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার মানবসেবার মূল দর্শন।
এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তার অবদান রয়েছে। রাজনৈতিক জীবন শেষ হলেও তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “যতদিন বাঁচবো, মানবকল্যাণে কাজ করে যাব।” এই অঙ্গীকারই তার জীবনদর্শনের সারকথা।
সবশেষে বলা যায়, এম. মনজুর আলম শুধু একজন সাবেক মেয়র বা সফল শিল্পপতি নন; তিনি একজন মানবিক সমাজনির্মাতা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। তার নিরলস মানবসেবা আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।









