জুলাই সনদ বাস্তবায়ন রাজপথেই: এমদাদুল্লাহ সোহাইল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একই তফসিলে দুটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি একটি নির্বাচনকে বৈধ বলছে আরেকটি নির্বাচনকে অবৈধ বলছে! বিএনপির দ্বিচারিতা আচরণ জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতার সামিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকার আমাদেরকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা ৭০ শতাংশ জনগণের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এসেছি। সংসদে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে রাজপথেই সমাধান হবে। সরকারের যাত্রা দেখে মনে হয় সরকার ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করছে। তিনি জনগণের মুখোমুখি না হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার (১১এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন দুর্বার গতিতে চালিয়ে যেতে হবে। বিএনপি সহজ ভাষা বুঝবে না। গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে বাধ্য করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা গণভোটে জনগণের রায় মেনে নেবে। তারা ৫১ শতাংশ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায়কে মেনে নিচ্ছে না। বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ৫১ শতাংশ জনগণের রায়কেও আমরা বৈধ বলতে পারি না। তিনি বিএনপিকে বিগত ১৭ বছরের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ আপনাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু আপনাদের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে আগামীতে জনগণকে পাশে পাবেন না। জনগণকে পাশে পেতে হলে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, খেলাফত মজলিস নগর সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, লেবার পার্টি মহানগর সহ সভাপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শাসুজ্জামান হেলালী, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শফিউল আলম, ডা. আবু নাছের প্রমুখ।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দরা বলেন, বিএনপিকে বিগত ১৭ বছরের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ আপনাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু আপনাদের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে আগামীতে জনগণকে পাশে পাবেন না। জনগণকে পাশে পেতে হলে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, শুধুমাত্র সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নায়েবে আমীর মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক, জোবায়ের হোসাইন ও মীর মুহাম্মদ শোয়াইব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, এলডিপির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আজগর চৌধুরী, খেলাফত মজলিস নেতা আবু তাহের তোরাবী, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, ফারুকে আজম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

মন্তব্য করুন