
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মোহাম্মদ আলমের পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও খোঁজখবর নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, খোঁজখবর গ্রহণ এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের ধারাবাহিক কর্মসূচির আওতায় তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং শহীদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে উল্লেখ করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাদের রক্তের বিনিময়ে জাতি স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শক্তি পেয়েছে। শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতির নৈতিক কর্তব্য। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ছিল ন্যায়, ইনসাফ ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব। চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক এডঃ মাহবুবুল আলম, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ শাহজাহান ও ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম মুহাম্মাদ সাইফুদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, শহীদ মোহাম্মদ আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর চট্টগ্রামের মনছুরাবাদ পুলিশ লাইনসের সামনে আয়োজিত একটি আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সরকার-সমর্থিত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। পরে তাঁকে নগরীর দামপাড়া গরীবুল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।









