
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোরবানির পশুর হাটের ইজারার প্রায় ৫ কোটি টাকা এখনো আদায় করতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেন। এর আগেও একই বাজারের ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও হাট কালেকশনের নামে রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছিল। এবারও বকেয়া অর্থ আদায় নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গতবারের মতো এবারও ইজারার বাকি অর্থ আদায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইজারাদারের কাছ থেকে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ অর্থ আদায়ে বিলম্বের কারণে চসিকের রাজস্ব আদায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাগরিকা গরুর বাজারের বকেয়া অর্থ আদায়-সংক্রান্ত একটি ফাইল এসেছে। কীভাবে আইনগতভাবে অর্থ আদায় করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি মেয়রকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি, রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় বকেয়া অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সাগরিকা গরুর বাজার গত ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মীরা মেরিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নেয়। ভ্যাট ও করসহ বাজারটি থেকে চসিকের মোট ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। ইজারার শর্ত অনুযায়ী বাজার শুরুর আগেই মোট অর্থের ৮০ শতাংশ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র সাড়ে ৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে, যা মোট ইজারামূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ। ঈদুল আজহা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও বাকি প্রায় ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় চসিক বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। এর আগেও একই বাজারের ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গত বছর একাধিক টেন্ডারে সর্বোচ্চ দর ওঠে ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টেন্ডার কার্যকর না করে হাট কালেকশনের মাধ্যমে প্রথম চার মাসের জন্য ৪ কোটি ৮০ লাখ, পরবর্তী দুই মাসের জন্য ২১ লাখ এবং শেষ ছয় মাসের জন্য ৯৯ লাখ টাকায় বাজার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে টেন্ডারের তুলনায় কম রাজস্ব আদায় হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় হাট কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ৫৫ লাখ টাকা আটকে রাখেন, যা এখনো আদায় হয়নি।
চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ইজারাদার এখনো ইজারার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেননি। বকেয়া অর্থ আদায়ে চসিক কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে ইজারা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









