জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পদদলিত করে স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে সরকার: নজরুল ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: “শহীদ আবু সাঈদের সাথী শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্ত, শহীদ ফারুক হোসেনসহ দু’হাজার শহীদ এবং আহত, পঙ্গু, অন্ধ ও অসংখ্য নির্যাতিত জুলাই যোদ্ধাদের আত্মদান ও ত্যাগ-কুরবানির ফলে দেশে ১২ ফেব্রুয়ারিতে একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল সরকারের। জুলাই সনদ মেনে নিয়ে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পরিবর্তে জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পদদলিত করে স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে সরকার।”

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়ানবাজারস্থ নগর জামায়াত কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে সরকার। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার উদ্বেগজনক। কিশোরদের অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়া, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কিশোরদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা গডফাদার, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্র সরবরাহকারী ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।

নগর জামায়াত আমীর বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। সরকারকে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয়করণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ চলমান জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য করুন