‘গণহত্যায় সম্মতি উৎপাদন করা মিডিয়াকে বিচারের আওতায় আনতে হবে’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে এখনো মিডিয়া ও কালচারাল জায়গায় বিভিন্ন ফ্যাসিবাদের দোসররা কিন্তু রয়ে গিয়েছে। আমাদেরকে দল মতের উর্ধ্বে গিয়ে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এরা সরাসরি গণহত্যায় অংশ না নিলেও সম্মতি উৎপাদন করাটাও নৈতিকভাবে অপরাধী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিন্তু এই বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক নাৎসি বাহিনীকে যারা সমর্থন দিয়েছিল তাদেরকেও কিন্তু বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। যারা সম্মতি উৎপাদন করেছে সমর্থন দিয়েছে তাদের বিচার নতুন সরকার নিশ্চিত করবে এটা আমাদের প্রত্যাশা থাকবে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, মিডিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময় মিডিয়ার যে সংস্কার সেটা আমরা করতে পারি নাই। কিন্তু আমাদের এই মিডিয়া সংস্কারটা আসলে লাগবেই। এখানে মিডিয়ার ভেতরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যে অংশটা ছিল এবং গত ১৬-১৭ বছরের মিডিয়ার ভূমিকা এটা আমাদের কারো কাছে অজানা নয়। মিডিয়ার সেলফ সেন্সরশিপ থেকে শুরু করে মিডিয়া যে সম্মতি তৈরি করেছে এই তিনটা নির্বাচন চোখের সামনে এভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এগুলা কিন্তু কোনো কিছু অজানা নয় এবং মিডিয়া আপনারা আরও ভালো জানেন মিডিয়া কীভাবে ম্যানিপুলেটেড হয়েছে। প্রেস ক্লাবগুলো কীভাবে একটা দলের কুক্ষিগত ছিল।

এখনো মিডিয়ার ভেতরে ফ্যাসিবাদের একটা বড় অংশ রয়ে গেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ভেবেছিলাম গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা নিজেরা পরিবর্তিত হবে অথবা মিডিয়া হাউজগুলোই দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে নিজেদের ভেতর সংস্কার আনবে। কিন্তু সেই দায়িত্বশীলতাও মিডিয়া হাউজগুলোর ভেতর আমরা দেখিনি। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ হত্যা নিয়ে একটা বিষয় আসছে, সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনিও কোথাও বলেন নাই কিন্তু এটা মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হলো। সরকার এটা বলেন নাই কিন্তু মিডিয়া প্রচার করা হলো ব্যাপকভাবে। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করা হলো বা সরকারকেও এই জায়গায় উস্কানি দেয়া হলো। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করেছেন। এই যে মিডিয়া বিভিন্নভাবে ন্যারেটিভ এখনও তৈরি করে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে, পতিত স্বৈরাচার সরকারের পক্ষে এবং নানাভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা কিন্তু আওয়ামী লীগের একটা পলিটিক্সের অংশ। এই জায়গায় আমাদের সচেতন হতে হবে এবং এই জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভা আরও বক্তব্য রাখেন, সিএমইউজের সভাপতি শাহনওয়াজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক এ এস এম সুজা উদ্দিন, প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, গ্রন্থাগার সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি ডেইজি মওদুদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ। এসময় এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন