
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ- এসসিএলএস-এর আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ. কে. খান আইন অনুষদে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো “প্রফেসর ড. খবির উদ্দিন আহমেদ ন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬”। দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের এই আইনভিত্তিক প্রতিযোগিতার এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল”।
দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল লিখিত মেমোরিয়াল জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত ১৬টি দল মৌখিক সাবমিশন পর্বে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতাটি মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়- প্রিলিমিনারি রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল রাউন্ড। ৫ জুন প্রিলিমিনারি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬ জুন কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন হয়।
প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জাস্টিস রেজাউল করিম।
বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশের মাননীয় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব আরশাদুর রউফ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) ও জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এ. ই. এম. ইসমাইল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সম্মানিত ডিন প্রফেসর ড. মো. জাফর উল্লাহ তালুকদার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলএলএম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার শাহ মুহাম্মদ ইজাজ রহমান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের সম্মানিত ডিন এ. বি. এম. ইমদাদুল হক খান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজের মডারেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রকিবা নবী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন বলেন, আইন পেশা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অনন্য অবস্থান। আদালত ন্যায়বিচারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে যাঁরা এ ব্যবস্থার সেবা করেন—বিচারক, আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ব্যক্তিত্বদের ওপর
বিশিষ্ট অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আমার জীবনের একটা বড় এক্সপেরিয়েন্স হলো এডজুডিকেটর প্যানেলে বসে সরাসরি একটা মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা দেখলাম। এখানে যারা মুটার ছিল তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। আজকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল করতে একটা মামলা এখানে পরিচালিত হয়েছে এবং যারা প্রসিকিউটর ও যারা ডিফেন্সে ছিল, যখন তারা যুক্তি ও তর্ক উপস্থাপন করেছিল তখন আমি কোনভাবেই পার্থক্য করতে পারেনি যে রায়টা পাবে এবং এটা ছিল একটা অভাবনীয় কিভাবে যে তারা চিন্তা করে তাৎক্ষণিকভাবে। সেজন্য আমরা জাজ এর এবং এডভোকেটবৃন্দদের আমি আমার পক্ষ থেকে জানাই স্যালুট। এখানে এত কঠিন একটা মামলা পরিচালিত হয়েছে যেখানে এক্সট্রা টেরিটোরিয়াল ছিল, ক্রাইম এর নেচার ভিন্ন ছিল। ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান লং টাকে ভিন্ন ভাবে এনালাইসিস করা হয়েছিল। তিনি আরো জানান যে টিমই জয়ী হোক না কেন উভয় টিমকে জানাই অভিনন্দন।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও অন্যান্য বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার একাডেমিক গুরুত্ব, আইন শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতি, আদালত-শিষ্টাচার, আইনি গবেষণা, নৈতিক আইনচর্চা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রাসঙ্গিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনক্ষেত্র, যা যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার, মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের গভীরতর ধারণা দিতে সহায়ক। বক্তারা আয়োজক সংগঠন সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ- এসসিএলএস, অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, বিচারকমণ্ডলী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজের মডারেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রকিবা নবী বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই সবাইকে এবং অভিনন্দন জানাই সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল স্টাডিজ আজকের অনুষ্ঠানের সফলতার জন্য। সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল লিগ্যাল স্টাডিজ সবসময় শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কাজ করে আসছে এই আয়োজন তিনি প্রতিযোগিতার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে বলেন, এটি আমাদের বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতার একটি রুপ।
সভাপতি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজনের জন্য প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথি, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, বিচারকমণ্ডলী, অংশগ্রহণকারী দল, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিজয়ী দলের সদস্যবৃন্দরা হলেন জান্নাতুল মাওয়া শুচি, জাইদ একরাম, নাফিসা তাবাসসুম এবং রানারআপ দল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। উক্ত দলের সদস্যবৃন্দরা হলেন মাশরুরা হক ওয়াফা, মুমতাহিনা ইমরোজ, সাকিব হোসেন। বেস্ট মেমোরিয়াল এর পুরষ্কার পান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেস্ট ইমার্জিং টিমের পুরষ্কার পান লিডিং ইউনিভার্সিটি। বেস্ট ওরালিস্টের পুরষ্কার পেয়েছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ওরালিস্ট শামস আবিরুজ্জামান শাইয়ুম। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকল দল, বিচারকমণ্ডলী, অতিথিবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।









