
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফলে সারাদেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। যদিও নীতিমালা অনুযায়ী ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল, বিভিন্ন কারণে শেষ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৪টি বৃত্তি শূন্য থাকে।
রোববার (১২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তির মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ছিল ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে মোট ৩৯ হাজার ৬০০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ সারাদেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
পরীক্ষায় মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। উপস্থিতদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ)।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।
সব মিলিয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেবল শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের একটি ব্যবস্থা নয়; বরং তাদের প্রতিযোগিতামূলক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।









