
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা পাঁচ কনটেইনার পচনশীল পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টম হাউস। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪০ কেজি বা প্রায় ১২৬ টন পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। এসব পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ওইসব কনটেইনারে রয়েছে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল ও ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি তাজা আদা।
বুধবার (৪ নভম্বের) সকাল ৯টা থেকে থেকে দরপত্র দাখিল শুরু হয়েছে। ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র দাখিল করা যাবে বলে জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ ই-প্রকাশ্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
জানা গেছে, নিলামের দরপত্র আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পচনশীল পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি, বন্দরের পণ্যজট কমানো, ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে একদিকে যেমন পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে বন্দরের মূল্যবান জায়গাও আটকে থাকে। এসব পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন ও রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শন করে নির্ধারিত নিয়মে নিলামে অংশ নিতে পারবেন।
নিলাম বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দুটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল। প্রতিটি চালানের সংরক্ষিত মূল্য ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৬১৯ টাকা ২১ পয়সা। দুই চালানের মোট সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে, তিনটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে তাজা আদা। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং বাকি দুটি কনটেইনারে ২৭ হাজার কেজি করে মোট ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা রয়েছে। এসব আদার মোট সংরক্ষিত মূল্য ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। সব মিলিয়ে পাঁচটি পণ্যচালানের সংরক্ষিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ৫ নভেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে পণ্যগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন। পণ্য যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থায় বিক্রি করা হবে। তাই দরপত্র দাখিলের আগে পণ্যের প্রকৃতি, পরিমাণ, গুণগত মান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নিলামে অংশ নিতে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট অথবা ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।









